আ.লীগের রাজনীতিতে ৫৬ বছর,আদর্শচ্যুত হয়নি: হাবিব

0

গোলাম সরওয়ার,সিটি নিউজ : ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন রিপোটে’র বিরুদ্ধে গড়ে উঠা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আসি। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর কথা বলেছি, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি।জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় রাজনীতির উত্থান পতন দেখেছি। আদর্শ ত্যাগ করে অনেকে সিঁড়ি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন স্বৈরশাসকদের। আমাকেও দেখানো হয়েছে ভয়-ভীতি। ৫৬ বছর আ.লীগের রাজনীতিতে তবুও আদর্শচ্যুত করতে পারেনি।কিন্তু এজন্য ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো নানাভাবেই আমাকে নির্যাতন ও বঞ্চিত করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একইভাবে বঞ্চিত হচ্ছি।

এ কথাগুলো বলেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান।

আসন্ন চন্দনাইশ উপজেলার প্রতিটি মহল্লায় উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফল পৌছে দিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা মো: হাবিবুর রহমান ।

সিটি নিউজকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্টের কালরাতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রতিবাদ করে স্বৈরশাসকের হুলিয়া মাথায় নিয়ে প্রায় তিন বছর পালিয়ে বেড়িয়েছি। এর পর গ্রেপ্তার হয়ে ১১ দিন নিরাপত্তা সেলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চালানো হয় নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পাষন্ডদের জিঘন্য কায়দায় নির্যাতন সহ্য করেছি। প্রায় দেড় বছর অন্ধকার কারা প্রকোষ্টে কেটেছে।

জননেতা হাবিবুর রহমান বলেন,দীর্ঘ চার যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামীলীগের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে স্বৈরাচারী শাসকদের জেল-জুলুম, হামলা-মামলা সইতে হয়েছে। ত্রিশটিরও বেশি মামলায় আসামী হয়েছি। দলের পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম ও কর্মসুচী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলাম। এভাবে চলে গেছে জীবনের অনেক সোনালী দিন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অপরাধে প্রতিটি মুহুর্তে শত্রুর রোষানলে পড়েছি। বাড়িঘরে থাকতে পারিনি। আজ এখানে, কাল সেখানে এভাবে কেটেছে দিন। এ রকম এক করুন জীবন জাটিয়েছি যা কাউকে বোঝানো যাবে না।

তিনি বলেন বলেন,’ রাজনীতির দীর্ঘ সময় বহু আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে প্রতিটি মূহুর্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব সময় রাজপথে ছিলাম এবং আজ অব্দি আছি। বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। দলের তৃনমুল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সম্পর্ক।

চন্দনাইশ উপজেলার অন্তর্গত বরকল ইউনিয়নের পর পর তিনবার নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বলেন,’ মানুষের প্রতি সেবামুলক মনোভাব, উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ত্যাগ সর্বোপরি জনসেবার পুরস্কার হিসেবে বরকল ইউনিয়নবাসী আমাকে তিনবার নির্বাচিত করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার গ্রহনযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আপনারাই জানেন। তিনি বলেন,’ চন্দনাইশ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আমার হাতে গড়া নেতাকর্মী। আমি নেতৃত্ব দিয়েছি, উপজেলা আওয়ামী লীগের।

তৃনমুলে গ্রহনযোগ্যতা ও নেতাকর্মীদের মাঝে সবচেয়ে ভীত মজবুত রয়েছে আমার। নেতাকর্মী, সমর্থক সহ জনগনের দাবীর কারনে আমি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আশা করি দীর্ঘদিনের ত্যাগ, পরীক্ষা ও দলের প্রতি আনুগত্যের সঠিক মুল্যায়ন দলের সভানেত্রী গনতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করবেন।

জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আমার ব্যাপারে অবগত আছেন। মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বলেন,’ দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে ইনশাআল্লাহ চন্দনাইশ উপজেলার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফল পৌছে দিতে সক্ষম হব। আমি সবার দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.