কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়

0

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজারঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে জাফর আলম, কক্সবাজার-২ আসনে (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) বর্তমান সংসদ সদস্য আশেক উল¬াহ রফিক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে বর্তমান সংসদ সদস সাইমুম সরওয়ার কমল ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আকতার বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। কক্সবাজারে স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোন জাতীয় নির্বাচনে এটাই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সফলতা। তাই এ বিজয়কে ঐতিহাসিক বলছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ৪৭ বছর পর কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রথম প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের জাফর আলম। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হাসিনা আহমেদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৬০১ ভোট। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ আলী আছগর পেয়েছেন ৫২২ ভোট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম ৪২৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী তানিয়া আফরিন ২১৮ ভোট, বদিউল আলম ৮৯ ভোট, মুসলিম লীগের মুহাম্মদ ফয়সল ৭০ ভোট, জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ পেয়েছেন ২৩১ ভোট। এ আসনের ১৩৯ ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮২৯ জন। তাদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪১ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৩২৯ জনের।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ইতিহাসের রেকর্ড ব্যবধানের বিজয়ী হয়েছেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের বতর্মান সংসদ সদস্য আশেক উল¬াহ রফিক। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৩ হাজার ৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আজাদ পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫৮৭ ভোট। বিএনপি প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল¬াহ ফরিদ পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৮৯ ভোট, গনফ্রন্টের প্রার্থী ড. আনসারুল করিম ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবু ইউসুফ মুহাম্মদ মনজুর আহমদ ১৪৭ ভোট, মুসলিম লীগের মোঃ শহীদুল¬াহ ৫২০ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ৭৩ ভোট ও বিকল্প ধারার শাহেদ সারওয়ার ৩৭৯ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুহিবুল¬াহ ৮৭ ভোট। এ আসনে ১০৫ ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলো ২ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৭ জন। তাদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭২১ জন। তাদের মধ্যে ভোট বাতিল হয়েছে ২ হাজার ১১৯ জনের।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। তিনি পেয়েছেন দুই লাখ ৫৩ হাজার ৮২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৭১৮ ভোট। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমিন পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মফিজুর রহমান ২৮৪ ভোট ও বিএনএফের মোঃ হাছন ২৬৩ ভোট। এ আসনের ১৬৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলো চার লাখ ১৪ হাজার ৯৩০ জন। তাদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭৯ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৭২০ জনের।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিন আকতারের কাছে রীতিমত ধরাশায়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। শাহীন আকতার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ১৮ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৬ ভোট। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ শোয়াইব ১ হাজার ৫১২ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের রবিউল হোছাইন ২১৮, জাতীয় পার্টির আবুল মঞ্জুর ১৮১ ভোট ও মুসলিম লীগের সাইফুদ্দিন খালেদ ৬৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে একশ’টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলো দুই লাখ ৬৬ হাজার ১৪৬ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২৩৮ হাজার ১৮৮ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ২ হাজার ২১৭ জনের। শাহীন আকতার স্বাধীনতা পরবর্তীকালে উখিয়া-টেকনাফ আসনে আওয়ামী লীগের প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এবার জেলার চার সংদীয় আসনে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন ২৯ জন। এই চার আসনে ভোটার ছিলেন ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮২ জন।

রবিবার সকাল ৮ টায় জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৫১৩টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৫৭৮ টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহন শুরু হয়। বিকেল ৪ টা পর্যন্ত একটানা বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহন চলে। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন ভোটাররা। ভোটাররা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা অত্যন্ত খুশি।

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। এসময় দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে শান্তি শৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলার জন্য ৩০ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৬ প্লাটুন নৌবাহিনী, ৪৮ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ৪৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.