কিউইদের কাছে ৮ উইকেটে হারল টাইগাররা

0

স্পোর্টস ডেস্কঃ নিউজিল্যান্ডের সাথে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীরা বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হারল। প্রথমে ব্যাট করে টাইগারদের দেওয়া ২৩৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.৩ ওভার খেলে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ফলে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউয়িরা।

ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটেই ১০০ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। এরপরই খেই হারান নিকোলস। মেহেদী হাসান মিরাজের বল উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি। ৮০ বলে ৫ চারে ৫৩ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

নিকোলস ফিরলে ক্রিজে আসেন কেন উইলিয়ামসন। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অধিনায়ক।নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক মার্টিন গাপটিল।ব্যাটিংয়ে নেমে একে একে হারান দুই সঙ্গী তবে থেকে যান তিনি। শুরুতে একটু ধীর দেখালেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিংয়ের ছন্দে ছন্দে রান তুলে ফিফটি তুলে নিয়ে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে। সেঞ্চুরীও হাকান তিনি।ম্যাচসেরাও হন মার্টিন গাপটিল।

নিউজিল্যান্ডের নেপিয়ারে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। শুরুতেই সাজঘরে ফিরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। হেনরির করা ইনিংসের প্রথম বলে চার হাঁকিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরের ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের করা বলে উইকেট রক্ষককের হাত ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন এই বাঁহাতি ওপেনার। যাওয়ার আগে ৬ বলে ৫ রান করেন তিনি। দলীয় ১৯ রানে তামিমের পথে হাঁটেন আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস। ৪.১ ওভারে হেনরির করা বলে সরাসরি বোল্ড হন লিটন (১)।

নিউজিল্যান্ড বোলারদের কোনোভাবেই সামলাতে পারেননি টাইগার ব্যাটসম্যানরা। এক্সট্রা সুইং, গতি, বাউন্সে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকে সফরকারীরা।

টাইগার শিবিরে তৃতীয় আঘাত হানেন বোল্ট। তিনি ৫ রান করা মুশফিকুর রহিমকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান। এর কিছুক্ষণ পরই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ৩০ রান করা সৌম্য সরকার।পরে খেলা ধরার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাকে যথার্থ সঙ্গ দেন মোহাম্মদ মিথুন। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন তারা। তবে বোঝাপড়া গড়ে উঠতেই পথচ্যুত হন মাহমুদউল্লাহ। লুকি ফার্গুসনের বলে রস টেলরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

দলের চরম বিপর্যয়ের দিন স্রোতের বিপরীতে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মোহাম্মদ মিথুন। তবে তীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলেও উইকেটে থিতু হয়ে থাকেন মিথুন। তুলে নেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি। হেনরির বলে এক রান নিয়ে ব্যক্তিগত ৫০ স্পর্শ করেন মিথুন। ৭৩ বলের তার অর্ধশতকে ছিল চারটি বাউন্ডারি। তার ব্যাটে ভর করেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

চরম বিপর্যয়ের মুখে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সাব্বির রহমান। মিচেল স্যান্টনারের বলে ভারসাম্য হারিয়ে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফেরেন তিনি।এই হার্ডহিটার ফিরলে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মিথুন। ভালো সঙ্গও পান তিনি। ফলে তাদের মধ্যে জুটি গড়ে ওঠে।ধীরে এগুতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু আচমকা থেমে যান মিরাজ। ক্রিজে নামার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। স্যান্টনারকে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৬ রানে জিমি নিশামকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি।

১৩১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠেন মোহাম্মদ মিথুন। প্রথমে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন তারা। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে দারুণ জুটি গড়ে ওঠে। ফলে রানও আসে।ফিফটি তুলে নেওয়া মিথুনের সাথে ফিফটির দোরগোড়ায় এগিয়ে যান সাইফউদ্দিন। তবে হঠাৎই পথ হারান তিনি। স্যান্টনারের বলে মার্টিন গাপটিলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সাইফ। ফেরার আগে ৫৮ বলে ৩ চারে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাতে ৮৪ রানের টাইগারদের জুটি ভাঙে।

সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মিথুন একটু পর সেও থামে। ফার্গুসনের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। বিদায়ের আগে ৯০ বলে ৫ চারে ৬২ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলেন তিনি।ব্যক্তিগত ৬২ ও ২২৯ মিথুন আউট হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহটা আর বড় হয়নি। ৪৮.৫ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২৩২ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৮ ওভার বোলিং করে ৪৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন স্যান্টনার। ৯.৫ ওভারে ৪০ রানে দিয়ে সমান তিনটি নেন বোল্ট। দুটি করে নেন হেনরি এবং ফার্গুসন।

ম্যাচ শেষে হতাশ মাশরাফির কণ্ঠে ছিল আরেকটু ভালো ব্যাটিংয়ের আক্ষেপ, আমরা ব্যাটিংয়ে খারাপ করেছি। দ্রুত বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। ব্যাটিং নিয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। মাশরাফি বলেন, কোন অজুহাত দিচ্ছি না। কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে আসা প্রয়োজন ছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪৮.৫ ওভারে ২৩২/১০ (তামিম ৫, লিটন ১, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৫, মিথুন ৬২, রিয়াদ ১৩, সাব্বির ১৩, মিরাজ ২৬, সাইফউদ্দিন ৪১, মাশরাফি ৯*, মোস্তাফিজ ০; স্যান্টনার ৩/৪৫, বোল্ট ৩/৪০, হেনরি ২/৪৮, ফার্গুসন ২/৪৪)

নিউজিল্যান্ড:৪৪.৩ ওভারে ২৩৩/২ (নিকোলস ৫৩, উইলিয়ামসন ১১, গাপটিল ১১* , টেলর ৪৫*; মিরাজ ১/৪২, মাহমুদউল্লাহ ১/২৭)

 

 

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.