ক্যাচ মিসের উৎসব করেও জিতল চিটাগং ভাইকিংস 

0

স্পোর্টস ডেস্কঃ বিপিএল এ ঢাকা ডাইনামাইটসকে হারিয়ে সুপার ফোর এ খেলা নিশ্চিত করেছে চিটাগাং ভাইকিংস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ৩৭তম ম্যাচে দিনের প্রথম খেলায় ঢাকা ডায়নামাইটস ও চিটাগং ভাইকিংস মুখোমুখি হয়। এ ম্যাচে ক্যাচ মিসের উৎসব করেও ম্যাচ জিতেছে। চিটাগংয়ের দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানে তুলতেই গুটিয়ে যায় ঢাকার ইনিংস। ফলে ১১ রানের জয় পায় মুশফিকের চিটাগং।

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে ইতিমধ্যে প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত করেছে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। এবার তৃতীয় দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করলো চিটাগং ভাইকিংস।

আজ বুধবার (৩০ জানুয়ারী) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুপুর ১.৩০ মিনিটে খেলাটি শুরু হয়।খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি ও মাছরাঙা টিভি চ্যানেল।

লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সাকিবের ঢাকা।শুরুতেই উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ শাহজাদের ক্যাচ দিয়ে নারাইনকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন আবু জায়েদ রাহি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই রনি তালুকদারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রাহি। শাহজাদের চতুরতায় মিজানুর রহমান রান আউট হলে চাপে পড়ে ঢাকা।

চতুর্থ উইকেটে নুরুল হাসানকে সাথে নিয়ে কিছুটা চাপ কাটিয়ে ওঠেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। একপ্রান্ত আগলে রাখেন অধিনায়ক। অপরপ্রান্ত থেকে বলের উপরে স্টিম রোলার চালান তিনি। খুব বেশিদূর যেতে পারেননি ঢাকার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সোহান। ক্যামেরন ডেলপোর্টের এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ২৩ বলে ২টি চার-ছক্কায় ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।যার ফলে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ঢাকা। কিন্তু একটু পর ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ড রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে ফের চাপে পড়ে সাকিবের দল।

অতিরিক্ত চড়াও হওয়ার খেসারত গুনে দাসুন শানাকার বলে ডেলপোর্টকে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ফেরার আগে ২৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন ক্যারিবীয় হিটার।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চিটাগং অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। শুভসূচনা এনে দেন মোহাম্মদ শাহজাদ ও ক্যামেরন ডেলপোর্ট। দারুণ খেলেন তারা। তবে হঠাৎই তাদের ছন্দপতন। সুনিল নারাইনের বলে নুরুল হাসানের স্ট্যাম্পিং হয়ে ফেরেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা শাহজাদ। ফেরার আগে ১৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২১ রান করেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে ইয়াসির আলিকে সাথে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন ডেলপোর্ট। একপর্যায়ে জমে ওঠে তাদের জুটি। ফলে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যায় চিটাগং। তবে আচমকা থেমে যান ইয়াসির। নারাইনের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বির্চের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ইনফর্ম এ ব্যাটসম্যান করেন ২০ বলে ২ চারে ১৯ রান।পরে মুশফিককে সাথে নিয়ে খেলা ধরেন ডেলপোর্ট। যোগ্য সঙ্গও পান তিনি। উইকেটে সেট হয়ে ছোটাতে শুরু করেন স্ট্রোকের ফুলঝুরি।ফিফটি তুলে নেন ডেলপোর্ট। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর আরো বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন তিনি। সমান তালে রানের ফোয়ারা বইয়ে দেন মুশফিক।

তবে অধিনায়ক থামতেই দিশেহারা চিটাগং। আন্দ্রে রাসেলের বোলিং তোপে পড়ে তারা। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে শুভাগত হোমের ক্যাচ বানিয়ে মুশফিককে ফেরান তিনি। সাজঘরে ফেরত আসার আগে ২৪ বলে ৪ চার ও ২টি বিশাল ছক্কায় ৪৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মুশি। পরের বলে একই ফিল্ডারের তালুবন্দি করে রান বইয়ে দিতে থাকা ডেপোর্টকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান ক্যারিবীয় পেসার। ড্রেসিংরুমের পথ ধরার আগে ৫৭ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন এ ব্যাটার। তৃতীয় বলে দাসুন শানাকাকে মিজানুর রহমানের ক্যাচে পরিণত করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রাসেল।

এবারের বিপিএলে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে ওয়াহাব রিয়াজ ও আলিস আল ইসলাম হ্যাটট্রিক করেন। রাসেলের হ্যাটট্রিকের পরও ফাইটিং স্কোর পেতে সমস্যা হয়নি মুশি বাহিনীর। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৪ রানের স্কোর গড়ে দলটি। ঢাকার হয়ে রাসিল ৩টি ও নারাইন ২ টি উইকেট তুলে নেন।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.