চট্টগ্রামে ভূয়া সিআইডি পুলিশ আটক

0

কারেন্ট টাইমসঃ নিজেকে সিআইডি পুলিশের অফিসার দানকারী সাজু আহমেদ পায়েল একজন প্রতারক, চোর ও মাদক ব্যবসায়ী। সাজু দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে একজন সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় প্রদান করে এবং লোকজনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। সে সুবাদে সে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রয় করে মর্মে জানিয়ে লোকজনের কাছে বিশ্বস্থতা অর্জন করে।

মূলত আসামী হিলি স্থল বন্দর দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা মোটরসাইকেল দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করে থাকে। সাজু বিভিন্ন লোকজনের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য তার নামে অঙ্কিত ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে এবং এই কাজে সে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন জনের সম্পর্ক স্থাপন করে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে।

প্রতারণা এবং নিজেকে সরকারী কর্মকর্তা পরিচয় প্রদান ও চুরি এবং মাদক পাচারসহ নানা অপরাধ কাজে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা আদালতে চলমান আছে। সে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন নিরীহ মহিলাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বেশকিছু মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। আসামীর কথাবার্তায় স্মার্ট এবং দক্ষ হওয়ায় লোকজন সহজে তাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে।

এমন একজন প্রতারককে কোতোয়ালী থানা পুলিশ মোটরসাইকেলসহ আটক করেছে। পুলিশের কাছে খবর আসে একজন লোক নিজেকে ভুয়া সিআইডি পুলিশ পরিচয় প্রদান করে মোটর সাইকেল বিক্রির জন্য কোতোয়ালী থানাধীন বিআরটিসি মোড়স্থ হোটেল সিলভার ইন নামক আবাসিক হোটেলের সামনে অবস্থান করছে। কোতোয়ালী থানা পুলিশ বিআরটিসি মোড়স্থ হোটেল সিলভার ইন নামক আবাসিক হোটেলের সামনে রাস্তার উপর উপস্থিত হলে দুইজন লোক জাহেদ আহমেদ, মো. মাহিন উদ্দিন পুলিশকে জানায় পায়েল নামে লোকটি আমাদেরকে সিআইডি পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি পুলিশের স্টীকারযুক্ত মোটর সাইকেল বিক্রয়ের কথা বলে ঘটনাস্থলে আসতে বলে।

লোকটি নিজেকে সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় প্রদান করে : যা সন্দেহজনক। তথায় উপস্থিত হোটেল সিলভার ইনের ব্যবসায়ীক পার্টনার সুজন মাহমুদ, এবং কর্মচারী ম্যানেজার মো. শাকিলও একই কথা বলেন। ধৃত আসামী তাদের হোটেলে অবস্থানের পূর্বে নিজেকে সিআইডি পুলিশের এসি পরিচয় প্রদান করার কথা বললে এসআই সজল কান্তি দাশ জনৈক সাজু আহম্মেদ পায়েল (২৮) কে আটকপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামী নিজেকে একজন সিআইডি পুলিশ বলে পরিচয় প্রদান করলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমান দিতে পারে নাই। পুলিশ সাজুর হেফাজতে থাকা নাম্বার বিহীন কালো রংয়ের পালসার মোটর সাইকেলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় উক্ত পালসার মোটরসাইকেলটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে হিলি স্থল বন্দর হতে বেআইনী ভাবে সংগ্রহ করে বিক্রয়ের জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসে।

পুলিশ তার কাছ থেকে ১টি মোটরসাইকেল, ভিজিটিং কার্ড ও ৪টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লেখা স্টীকার জব্দ করেন। এই সংক্রান্তে এসআই/সজল কান্তি দাশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও প্রতারণার দায়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। সাজু আহম্মেদ পায়েলের পিতার নাম আব্দুল আউয়াল, মাতা-সাহারা বেগম, সাং-রাজীব (শঠি বাড়ী), পোঃ টেপা মধুপুর, থানা-কাউনিয়া, জেলা-রংপুর।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.