চন্দনাইশে গণিত অলিম্পিয়াডে প্রতিবন্ধী আলিফের কৃতিত্ব

0

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশঃ মনের জোরে কি না করা যায়, তা আলিফকে না দেখলে বুঝার উপায় নেই। জন্ম থেকে যার দু’পা নেই, কিন্তু সে তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে বিদ্যালয়ে তার ক্লাসে সেরা ছাত্র হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছে। জীবনের শুরু থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী আলিফ পিছনের দিকে না থাকিয়ে চলাফেরার অক্ষমতাকে জয় করে হুইল-চেয়ারে অন্যের সাহায্যে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলিফ ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিবারে বিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র হিসেবে স্বাক্ষর রেখে শ্রেণি ১ম হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তর জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ-প্লাস পেয়েছে। পরবর্তীতে জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১ম স্থান অধিকার করে বর্তমানে ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রয়েছে আলিফ।

আজ বুধবার( ১ লা মে) বরকল স্বপ্নবিলাস বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে চন্দনাইশে ১ম বারের মতো গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে এসে উপজেলার ৪০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী প্রায় ৫’শ গণিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজের যোগ্যতা বলে আলিফ ১৫তম স্থান অধিকার করে নেয়।

এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা আলিফের সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে তার জীবনের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিচ্ছবি যদি সুযোগ আসে, তাহলে তার মতো যারা সমাজে অবহেলা ও অসহায়ভাবে রয়েছে, তাদের নিয়ে কাজ করার। শারীরিক প্রতিবন্ধীকে জয় করে জীবনের সকল বাঁধা অতিক্রম করতে হবে- এটাই যেন হয় প্রত্যেক প্রতিবন্ধীর স্বপ্ন।

আলিফের ইচ্ছা, সে এইচএসসি পাশ করে সুযোগ পেলে মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে পড়বে। ডাক্তার হতে পারলে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করবে। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে আলিফ ভাল ছবিও আঁকে। তার প্রিয় খাবার নডুলস, প্রিয় রঙ সবুজ। সে হুইল চেয়ারে করে তার ফুফাতো ভাই ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আরফাতের সহায়তায় বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

তার পিতা সৌদি প্রবাসী মো. আলী জাফরী। আলিফ জাফরীর ১ম সন্তান। আলিফের ২ভাইয়ের মধ্যে একজন ৫ম ও অপর ভাই ৩য় শ্রেণিতে পড়ে। আলিফের প্রিয় মানুষ তার মা। তার মায়ের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের কারণে সে এ মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন আলিফের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অবহেলার চোখে না দেখে জাতির সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাহলে আলিফের মতো যারা রয়েছে, তারা তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.