চন্দনাইশ কৃষিতে অপার সম্ভাবনা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক,চন্দনাইশ : বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, আবার কৃষি নির্ভর দেশও।দেশের অধিকাংশ মানুষই কোনো না কোনভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষক আমাদের খাদ্যের যোগান দেয়, তাই এ কাজটা মহান একটি কাজ। কৃষককে কোনভাবে হেয় করার সুযোগ নেই। আমাদের বাংলাদেশ কৃষি কাজে অনেক অগ্রসর হয়েছে। তবে যতটা ভালো করছে, তার চেয়েও বেশি ভালো করার সুযোগ রয়েছে।

আমরা বিশ্বে সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর ধান উৎপাদনে চতুর্থ। চাইলেই আমরা আরও ভাল অবস্তানে যেতে পারি। তবে কৃষি জমির অপ্রতুলতা বা দিন দিন কৃষি জমি কমে যাওয়া আমাদের জন্য একটা হুমকি স্বরূপ।

কিন্তু আগাম ফসল বা উন্নত প্রজাতির ফসল চাষ করে অল্প জমিতে বেশি চাষ করার সুযোগ রয়েছে আমাদের। এক ফসলী জমিকে ২ বা ৩ ফসলী করা সম্ভব। হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন অবশ্যই কৃষিতে নতুন এক দিগন্তের সূচনা। বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের দেশের কৃষক আকৃষ্ট । নিজের ঘরে প্রয়োগযোগ্য বা নিজেই তৈরিযোগ্য প্রযুক্তি, এখন কৃষি কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আমাদের দেশে উৎপাদিত সবজি বিদেশে রপ্তানি না হওয়ার একমাত্র কারণ অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার। আমাদের দেশের কৃষি জমি কিছুটা বৈচিত্র্যময় বলা চলে। কারণ আমাদের পুরো দেশে মোটামুটি সব ধরনের ফসলের চাষ করা যায়।

ধান এবং সবজির পাশাপাশি আমরা পাটেও বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছি। পাট আমাদের সোনালী আঁশ। কারণ পাট আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছে। বিদেশি সবজি ও ফল চাষাবাদে আমাদের কৃষকরা আগ্রহী। আগের থেকে আমাদের কৃষি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে এগিয়ে। যেখানে সুযোগ বেশি সেখানে দুর্যোগও বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই, এছাড়াও আমাদের দেশে আরো কিছু সমস্যা আছে যা সমাধান অতীব জরুরি। কৃষক বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য কেনার সময় এবং ফসল বিক্রির সময় বড় ধরনের প্রতারিত হয়। আর আমাদের দেশে কৃষির জন্য কোন ইন্স্যুরেন্স নেই। ফসল বা সবজির ক্ষতি হলে দায় নেয়ারও কেউ নেই।

আবার কৃষি উপকরণ সঠিক জায়গায় সঠিক সময় সর্বদা পাওয়া যায় না। তাই কৃষিক্ষেত্রে আমাদের কাজ করার অনেক জায়গা আছে। আমাদের সম্যসাগুলো সঠিকভাবে নির্ণয় করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কৃষিতে বাংলাদেশ বিল্পব ঘটাতে বাধ্য।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার খ্যাত দোহাজারী শঙ্খ তীরবর্তী এলাকায় সারা বছর সবজি চাষ হয়ে থাকে। শীত মৌসুমে আগাম সবজি চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে । প্রতি বছর শঙ্খ তীরবর্তী চাগাচর, চরখাগড়িয়া এলাকায় ব্যাপক আলুর চাষাবাদ হয়। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এ সকল সবজি ও আলু চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার চাহিদা মিটায়। এ এলাকায় বছরে কয়েক দফা সবজি চাষ হয়।

এ সকল একই জমিতে এক সাথে তিন ধরনের সবজির ফলন হয়। এ সকল কৃষকদের আধুনিকভাবে প্রশিক্ষিত করে চাষাবাদে আগ্রহী করলে দেশের অর্থনীতিতে বৈল্পবিক পরিবর্তন আসবে। সে সাথে শঙ্খ তীরবর্তী এলাকার কৃষকেরা স্ব”ছল ও বিত্তশীল হবে। একইভাবে কৃষকদের দাবী সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য করার দাবী জানান। প্রতি বছর কোন না কোনভাবে কৃষকেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে । এ ব্যাপারে তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদের জন্য তাদের পরামর্শ দেয়ার দাবী জানান। একইভাবে কৃষি ক্ষেত্রেও ইন্সুরেন্সের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার সু-নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবী জানান। অন্যথায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার নামে খ্যাত দোহাজারী শঙ্খ তীরবর্তী এলাকার কৃষকেরা সবজি চাষে আগ্রহ হারাবে দিন দিন।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.