জীবনের স্বতঃস্ফূর্ততায় চট্টগ্রামে সর্ববৃহৎ উৎসব অনুষ্ঠিত

0

সিটি নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত শুক্রবার ৮ মার্চ চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল প্রাঙ্গনে। এই অলিম্পিয়াড বাংলাদেশে এই নিয়ে পঞ্চম বারের মত এবং চট্টগ্রামে তৃতীয় বারের মত অনুষ্ঠিত হল। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে এই আঞ্চলিক আয়োজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সকাল ৮ টায় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জুনিওর (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী), মাধ্যমিক (৯-১০ম শ্রেণী) এবং উচ্চ মাধ্যমিক (১১-১২শ শ্রেণী) পর্যায়ে ১৫৪৯ জন শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এই আঞ্চলিক অলিম্পিয়াড। বাংলাদেশের সকল আঞ্চলিক এবং জাতীয় পর্যায়ের অলিম্পিয়াডের মধ্যে এই আয়োজনে ছিল শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি যা চট্টগ্রামের একটি অতুলনীয় প্রাপ্তি।

এক ঘন্টার অলিম্পিয়াড পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান এবং বিশেষজ্ঞের কাছে প্রশ্নোত্তর পর্ব। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, প্রধান আলোচক চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডাঃ ইসমাইল খান, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন আঞ্চলিক কমিটির অর্থ-সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সাহেদ মাহমুদ এবং সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌-ফোরকান। এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সর্বপ্রথম নারী হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করা প্রফেসর ড. জয়নব বেগম-কে সংবর্ধিত করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন বিশ্বে আজ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, প্রকৃতির পরিবর্তনে হুমকির মুখে আজ মানুষ নিজেও। প্রাণীদের রক্ষায় নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডাঃ ইসমাইল খান বলেন মানবজাতির কল্যাণে বায়োটেকনোলজি এবং ইনফেরমেশন টেকনোলজির ভূমিকা এখন মূখ্য। শিক্ষার্থীদেরকে এসব ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রতিদ্বন্দীতায় দেশকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা নিতে হবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌-ফোরকান, শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ বাসনা মুহুরী এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ সুযত পাল। শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিদীপ্ত এবং প্রাণবন্ত অংশগ্রহনে মুখরিত হয় এই পর্ব।

এক ঘন্টার অলিম্পিয়াড পরীক্ষা শেষে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ জিবরান আলম এবং প্রকাশনা সম্পাদক অমিত দত্তের তত্ত্বাবধানে ফলাফল প্রকাশিত হয়। জুনিয়র সেকশন থেকে ৮৫ জন, মাধ্যমিক সেকশন থেকে ৮৪ জন এবং উচ্চ মাধ্যমিক সেকশন থেকে ৭৮ জন মোট ২৪৭ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তাঁরা পাচ্ছেন ঢাকায় আগামী ২২ মার্চ জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহনের সুযোগ।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা চ্যাম্পিয়ন হন জুনিয়র থেকে সাহেরী সুসান (ড. খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়), মাধ্যমিক থেকে তালহা জুবাইর (চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্ট পাবলিক কলেজ) এবং নাফিসা নাইরুন (চট্টগ্রাম কলেজ)। পরীক্ষা শেষে বিজয়ীদেরকে সার্টিফিকেট এবং মেডেল প্রদান করা হয় এবং অংশগ্রহনকারী সকল শিক্ষার্থীদেরকে স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের সকল ভলান্টিয়ারদের (এনজাইম) মধ্য থেকে বিশেষ বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

জাতীয় পর্যায় থেকে ৩০-৩৫ জনকে বাছাই করা হবে হাঙ্গেরীতে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য। এখানে উল্লেখ্য গতবারের আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে হাঙ্গেরীতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক এই আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আনিস ফারুক, সিনিয়র শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, শাকের খোকন, সৈয়দ লোকমান, রক্তিম বড়ুয়া, অম্লান ভট্টাচার্য্য, সাকিন আবদুল্লাহ এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল বিএনসিসি’র ৬ জন সদস্য। অনুষ্ঠানটি আয়োজনের স্পন্সর হিসেবে ছিলেন এরিস্টোফার্মা লিমিটেড, পিএইচপি ফ্যামিলি, সমকাল এবং নেসক্যাফে বাংলাদেশ।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.