জীর্ণতাকে বাদ দিয়ে প্রকৃতি গাইছে নতুনের গান-শুভ নববর্ষ

0

দিলীপ তালুকদারঃ আজ রবিবার বাংলা-১৪২৬ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বাংলা বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন জায়গায় বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের মেলা।

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/ তাপস নিঃশ্বাস বায়ে/ মুমূর্ষুরে দাও উড়য়ে/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক/ এসো এসো…বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান এখন বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে।

নববর্ষ মানে কৃষকের মুখে হাসি, নববর্ষ মানে হালখাতার উৎসব। নববর্ষ মানে বাঙ্গালীর মিলন মেলা। নববর্ষ মানেই গ্রামীণ জীবনে জারি, সারি গানের সুর। নববর্ষ মানে বাঙ্গালী গৃহধূর পায়ে লাল আলতা। নববর্ষ মানেই গ্রামের বটতলায় মেলায় মানুষের প্রাণের ছোঁয়া। বাংলা নববর্ষকে নিয়ে উপমার শেষ নেই। তবে কৃষককে ঘিরেই এ নববর্ষের উৎপত্তি হলেও আজ ডিজিটাল যুগে এসে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।

এখন নববর্ষ গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে চলে গেছে শহরে। আগের মত গ্রামে নেই নববর্ষের সকালে কলা পাতায় মরিচ পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা খাওয়ার আয়োজন। কালের বিবর্তনে এখন নববর্ষের সকালে ফরমালিন যুক্ত উন্নত প্লেটে ইলিশের টুকরো। এক সময় নববর্ষ শহরে তেমন প্রভাব পড়তো না। প্রভাব পড়তো গ্রামীণ জীবনে। এখন গ্রামীন জীবনে নববর্ষের তেমন প্রভাব পড়ে না। শতাব্দীর পরিক্রমায় সব কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।

আগে গ্রামে দিনের ভাত পানি দিয়ে রাখা পান্তা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, নদীর টাটকা ইলিশ সবই ছিল গ্রামীণ জীবন ধারার বিশেষ অংশ। বর্তমান সময়ে এসে গ্রামীণ জনপদ জানতে পারে নববর্ষ এসেছে, কিন্তু উৎসব নেই তাদের মধ্যে। তবে বুঝতে পারে তখনোই যখন দেখতে পায় বাড়িতে দোকানদারদের হালখাতার দাওয়াত কার্ড। যদিও নতুন করে ঝেড়ে মুছে সাজাতে নববর্ষকে বরণ করা হয়। কিন্তু দিন দিন গ্রামীণ জীবন থেকে নববর্ষের এসব কালচার হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় রাজা, পরগোনার জমিদাররা নববর্ষের দিনে খাজনা আদায় করতো। যারা খাজনা দিতো তাদের মিস্টি মুখ করানো হতো। আর যেসব প্রজা খাজনা দিতে পারতো না তাদের উপর চালতো নির্যাতন। রাজা নেই, রাজ্য নেই। তাই গ্রামীন জীবন থেকে হারাতে বসেছে নববর্ষের উৎসব। তবে সেই সময় থেকে হালখাতার প্রচলন চলে আসছে। এখনও নববর্ষের হালখাতা একটি ঐতিহ্য বহন করে আছে। নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

নববর্ষ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিক তুলে ধরে ক্রোড়পত্র বের করেছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি রেডিও ও টিভি চ্যানেলে নববর্ষকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিআরবি শিরিষ তলা, ডিসি হিলসহ বিভিন্ন জায়গায় বসেছে বাঙালির প্রাণের মেলা বৈশাখ বরন উৎসব।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.