নির্বাচনে কে জয়ী হলো সেটা ইসির বিষয় নয়ঃ সিইসি

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, আমরা চাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আপনাদের পরিচালনায় সুষ্ঠু হবে যেমনটি হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, এখানে নির্বাচনে কে জয়ী হলো সেটা আপনাদের বিষয় নয়। আপনাদের বিষয় হলো আচরণবিধি তারা কিভাবে পালন করে সেটা দেখা। যাদেরকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তিনি হবেন নির্বাচিত।

আজ মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আগারগাঁওস্থ ইটিআই ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র পদে নির্বাচন, উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে স্থগিত নির্বাচন এবং উত্তর সিটির ৯ ও ২১ নং সাধরণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের শূন্য পদে নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা যে পরিশ্রম করেছেন, দক্ষতা দেখিয়েছেন এবং একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন জাতির জন্য উপহার দিয়েছেন। যে জন্য আপনাদেরকে এবং আপনাদের মাধ্যমে আপনাদের যত সহকর্মী আছেন বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় তাদের প্রতি আন্তরিকতা থাকল, অভিনন্দন থাকলো।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে কেএম নূরুল হুদা বলেন, সচিব সাহেবের স্বাক্ষরে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধিমালা আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এখানে ৩৩টি বিধি রয়েছে তার মধ্যে ৩০টি বিধির উপরে আপনাদের দৃষ্টি দিতে হবে, নজর দিতে হবে। সেই বিধিগুলো প্রতিপালন কিভাবে হয়, সেটা যদি দেখতে পারেন তাহলে দায়িত্ব পালন করা অনেক ক্ষেত্রে সম্পন্ন হবে।

সিইসি বলেন, চারজন সহকর্মী কিন্তু একটা কমন কথা বলেছেন। আইনানুগ নির্বাচন করতে হবে। আপনাদের প্রতি যেমন মানুষের যে আস্থা, ভালোবাসা আছে। সেটা প্রয়োগ করেই এই নির্বাচনের আচরণবিধি কিভাবে প্রতিপালিত হয় সেটা দেখতে হবে। আপনারা জানেন যখনই ম্যাজিস্ট্রেটরা কোথাও গিয়ে আচরণবিধি মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেন তারা- প্রার্থী বা যেই হোক না কেনো সবাই কিন্তু অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে প্রতিপালন করেন।

কেএম নূরুল হুদা আরও বলেন, সমস্যা হয় কাউন্সিলরদেরকে নিয়ে। কাউন্সিলররা এতো বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, আইন-কানুন অবনতির ক্ষেত্রে কোনো কোনো জায়গায় তাদের ভূমিকা থেকে যায়। তবে আপনাদের যে ক্ষিপ্রতা, নিরপেক্ষতা, আপনাদের বিচারিক মনোভাব নিয়ে যদি তাদের সামনে যান দেখবেন প্রত্যেকে আপনাদের কথা শুনবে।

তিনি বলেন, আমি দেখেছি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। কোনো কোনো জায়গায় একজন জুনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে কোনো প্রার্থীকে যদি জরিমানা করেছেন, প্রতিবাদ করেননি। যে দলেরই হোক না কেন জরিমানা দিয়ে ও ভবিষ্যতে এরকম অপরাধ আর করবে না এরূপ অঙ্গীকার দিয়ে গেছেন।

নূরুল হুদা বলেন, আমার সহকর্মীরা বলেছেন- আইনানুগ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচারিক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সেটা আপনাদের মধ্যে আছে একথায় আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আপনারা যারা এখানে আছেন, তারা এদেশের যোগ্য নাগরিক। আপনাদের হাতে কোনো অনিয়ম হবে না এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আপনারা কখনো বিশেষ করে নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে আপনাদের আপস হবে না এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আপনাদের প্রতি মানুষের যে আস্থা, সম্মান ও ভরসা সেই জায়গাটায় আপনারা কখনোই কম্প্রোমাইজ করবেন না সেটা আমি জানি।

তিনি বলেন, আমি বারবার বলেছি যে- দেশ আপনাদের হাতে ভবিষ্যতে গঠিত হবে। আপনাদের হাতে দেশ সম্পদশালী হবে, উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে, অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে যাবে কোনো সন্দেহ নেই। আপনারা ছাড়া আর কে বা করবে। এই দেশের উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব কে নেবো। এখন যেখানে আছেন তার চেয়ে আপনাদের যোগ্যতার মাপকাঠিতে অনেক উপরে যাবেন, আরও বড় বড় দায়িত্ব নেবেন। সুতরাং আপনাদের এখনকার যে দায়িত্ব তা কখনো অবহেলার চোখে দেখবেন না।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.