ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের দামামাঃ পাল্টিপাল্টি অভিযোগ

0

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা তাদের আকাশসীমায় দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া এক পাইলটকে আটক করেছে। অন্যদিকে ভারত দাবী করেছে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিদ্ধস্ত করেছে ।

আজ বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে পাক-ভারতের নিয়ন্ত্রণ রেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি ও আলজাজিরার প্রতিবেদন ও ভারতীয় গণমাধ্যমে এ কথা বলা হয়েছে।

অবশ্য ভারতও বলছে, তাদের দুটি যুদ্ধবিমান বিধস্ত হয়েছে। তবে দেশটির গণমাধ্যম এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি। কোনো কোনো গণমাধ্যম যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান দুটি ভূপাতিত হয়ে থাকতে পারে বলে বলা হয়েছে। এতে দুই পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলেও ভারতের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বলছে, আগের দিন মঙ্গলবার ভারতীয় বিমানের সীমান্ত লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ার পাল্টা জবাব হিসেবে বিমান দুটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন বলছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই আক্রমণের মূল উদ্দেশ্যে হলো আমাদের অধিকার, ইচ্ছা এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রদর্শন। আমরা উত্তেজনা বাড়াতে চাই না, কিন্তু কেউ বাধ্য করলে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর ভারতীয় বিমান ভূপাতিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘনের জবাবে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (পিএএফ) এ আক্রমণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘পিএএফ পাকিস্তান সীমান্তে দুটি ভারতীয় বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এর একটি আজাদ কাশ্মীরে (পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত) পড়েছে এবং অপরটি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (আইওকে) পড়েছে। এক ভারতীয় পাইলটকে সেনারা আটক করেছে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ৪৯ সেনা নিহতের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল নয়াদিল্লি। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের বালাকোট, চাটোকি ও মুজাফফরাবাদে কয়েটি হামলা চালায় ভারত। যদিও হতাহতের বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।

ওই হামলার পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, তারা সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তারপরই আজ বুধবার দুটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিতের দাবি করলো পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, পুলওয়ামার ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মাদ। কিন্তু সংগঠনটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হলেও নয়াদিল্লির দাবি, হামলার পেছনে ইসলামাবাদের মদদ রয়েছে। কিন্তু ইসলামবাদ এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ভারতের দাবির পক্ষে প্রমাণ দাবি করে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে সে ধরনের কোনো প্রমাণ হাজিরের খবর পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান বিদ্ধস্তের দাবি ভারতের
ভারতের আকাশসীমায় পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিদ্ধস্ত করার দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তারা দাবি করেছে, যুদ্ধবিমানের পাইলট প্যারাশুট দিয়ে ভারতীয় সীমানার কোনো একটি গ্রামে নেমে গেছেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। পাকিস্তানি পাইলটের সন্ধানে আশপাশের এলাকায় সেনা তল্লাশি চলছে।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে ভারতের আকাশসীমায় পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছিলো। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান দেখতে পেয়েই সেটাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন ভারতীয় সেনারা।

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পুনচ ও নওশেরা নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে বলে জানায় সংবাদসংস্থা পিটিআই।

ভারতের তরফে পাকিস্তানের ওই যুদ্ধবিমানকে ফিরে যাওয়ার সংকেত দেওয়া হয়, ফিরে না যাওয়ায় যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান ভারতীয় সেনারা। এরপর বাধ্য হয়ে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানটি ফিরে যাওয়ার বোমা ফেলে। তবে ভারতীয় সেনাদের গুলির তীব্রতায় যুদ্ধবিমানটি ভারতের সীমানা পেরোতে পারেনি বলে দাবি ভারতীয় সেনাদের। তাদের দাবি, এফ১৬ যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়েছে ভারতীয় সীমানায়।

এরপরই ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমানঘাঁটিগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে, জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের এয়ার স্ট্রাইকের জবাবের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ঘটনার পর ভারত কাশ্মীরের আকাশে সব ধরনের প্লেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রের দাবি।

ভারতের সাথে ফের শান্তি আলোচনা প্রস্তাব পাক প্রধানমন্ত্রীর

চলমান পাক-ভারত উত্তেজনার জেরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এড়িয়ে আবারো ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে উঠে এসেছে কার্যত সব ইতিবাচক বার্তা। তিনি বলেছেন, আমাদের উভয় দেশের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। সুতরাং আমাদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেট তারকা বলেছেন, সংঘাত যদি শুরু হয়, তাহলে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেও যেমন থাকবে না, তেমনই নরেন্দ্র মোদির হাতেও থাকবে না।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, আমি ভারতকে বলতে চাই, এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা বোধশক্তি এবং প্রজ্ঞার সমন্বয়ে কাজ করি। যতগুলো বড় যুদ্ধ হয়েছে তার পেছনে ছিল ভুল হিসাব-নিকেশ। হিটলার কখনো ভাবেন নাই যে যুদ্ধ এত বছর ধরে চলবে। আমেরিকানরা কখনো কল্পনা করেন নাই যে, ভিয়তনাম এবং আফগানিস্তান যুদ্ধ দশকের পর দশক ধরে চলবে।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.