ভোট রঙ্গ জল তরঙ্গ

0

জুবায়ের সিদ্দিকীঃ বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এটা কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু একই সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরে ক্ষমতাসীন রানৈতিক দল নির্বাচনে তাদের আমলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে তাহা ভোটারদের নিকট তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করবেন। কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে কোন নাগরিকই দুর্নীতি এবং অনাচারের বিনিময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কামনা করেন না। যারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন তাদের দায়ভার সরকারকে বহন করতে হয়।

বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনৈতিক ও নানা ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নতির সুফল সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে কি ভোগ করতে পারছেন? এসব বিষয় এবারের নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। প্রতীক কোন ব্যাক্তিকে মহৎ করে না বা তার কাজকে প্রভাবিত করতে পারে না। বরং ব্যক্তিই প্রতীককে মহৎ করে। কাজেই একমাত্র নির্বোধ ব্যাক্তি ছাড়া কেউই এই প্রতীক দেখে ভোট দিতে পারেন না। প্রতীকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রার্থীর ব্যাক্তিগত যোগ্যতা। আগে আমাদের দেশে স্লোগান ছিল আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশী তাকে দেব। তবে স্লোগানটি এমন হতো আমার ভোট আমি দেব যোগ্য লোক দেখে দেব। কারণ ভোট জনগনের একটি পবিত্র আমানত। সে আমানত যাকে তাকে দেওয়া যায় না।

প্রার্থী কে সেটা আমরা মোটামুটি জানি। সেই জানাকেই ভিত্তি করে ভোট প্রদান করতে হবে। ভোট এলে সবাই মিষ্টি কথা বলেন। তাই বলে তাদের সেই মিষ্টি কথায় ভূললে চলবে না। নিজের বুদ্ধি বিবেচনা কাজে লাগিয়ে উপযুক্ত ব্যাক্তিকে বেছে নিতে হবে। মানুষ সাধারণত দুইটি সময় খুব ভালো হয়ে যায়। একটি হচ্ছে নির্বাচনের আগে, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে তার মৃত্যুর দিনক্ষণ জানতে পারলে, তাহলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খুব ভালো থাকার চেষ্টা করে। কাজেই ‍নির্বাচনে আগে যারাই ভালো কথা বলুক না কেন তাদের কথায় ভূলে গেলে চলবে না। কে কোন দল করলেন তা যতনা বিবেচ্য বিষয় তার চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ব্যাক্তি হিসেবে তিনি কেমন। এবারের ভোট রঙ্গ চট্টগ্রামে জল তরঙ্গ হয়ে হিসেব নিকেশ পাল্টে যাবে ব্যালটের মাধ্যমে।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.