শঙ্খ তীরবর্তী শীতকালীন সবজি বাজারে

0

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ : চন্দনাইশ ৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় কৃষি জমিতে রবি মৌসুমে শীতকালীন শাক সবজি ব্যাপক হারে ভা হয়েছে।

কৃষকদের কাছ থেকে পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জাতের সবজি ক্রয় করে নিয়ে যায় প্রতিদিন নগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চন্দনাইশের সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে। শীতকাল আসলেই চন্দনাইশের শঙ্খ তীরবর্তী উৎপাদিত সবজি নিতে ছুটে আসে চট্টগ্রামের পাইকারী সবজি ব্যবসায়ীরা।

এখানকার প্রায় কৃষকরা বিষমুক্ত কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহারে সবজি গুলোর অধিক ফলন ও স্বাস্থ্য সম্মত হয়। কৃষকরা সবজি চাষাবাদে বিষমুক্ত কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহারের ফলে দিন দিন জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে সাথে ফলনও হচ্ছে অনেক বেশি। বর্তমানে সবজির দাম অনেকটা চড়া থাকায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। শীতের শুরু থেকে যে দামে সবজি বিক্রি হয়েছে, তা দ্বিগুন হারে বিক্রি করছে কৃষকরা। অজুহাত কৃষি উপকরনের দাম ও সেচ দিয়ে পানি দেওয়া এবং কৃষি কাজের শ্রমিকদের মজুরির মুল্য বেশি হওয়ায় কৃষকেরা ফলনের যে খরচ হয়েছে, তা সবজি বিক্রি করে খরচ মিটিয়ে নেয়। ধানি জমিতেও ব্যাপকহারে সবজি চাষ হচ্ছে চন্দনাইশের চর ও পাহাড়ি এলাকায়।

জানা যায়, উপজেলার শঙ্খ তীরবর্তী দোহাজারী, চাগাচর, রায়জোয়ারা, লালুটিয়া, বৈলতলী, বরমা, চর বরমা, ধোপাছড়ি, পূর্ব হাশিমপুর, কাঞ্চননগরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সবজি চাষ করে সহস্রাধিক কৃষক তাদের জীবন-জীবিকার ব্যয় মেটায়। এ সকল এলাকার কৃষকেরা পুরোপুরি ভাবে সবজি চাষকে প্রধান পেশা হিসেবে বছরের পর বছর ধরে সবজি চাষ করে জীবন নির্বাহ করে আসছে। দোহাজারী, চাগাচর, বৈলতলী, বরমা এলাকায় সবচেয়ে বেশি শাক-সবজির চাষাবাদ হয়ে থাকে।

অন্য ফসলের চেয়ে সবজি চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে কৃষকরা। সবজি চাষের মধ্যে আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, শসা, বেগুন, টমেটো, শিম, মরিচ পেয়াজ, লাল শাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ধনিয়া পাতা, ভুট্টা,সরিষা, গাজর, চীনাবাদামসহ বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন হয়। এসব সবজি হাট বাজারে শীতের শুরুতে আসতে শুরু করে। চাগাচরের কৃষক আবদুল মজিদ জানান, এখানকার সবজি খুবই সুস্বাদু, চাহিদাও প্রচুর। তাই এখানকার উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে যায়। পাইকারী ব্যবসায়ীরা ট্রাক, ডাম্পার, ভ্যানে করে সবজি নিয়ে যায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায়। টমেটো, ফুতা বেগুন, আলুসহ উৎপাদিত সবজি প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে।

প্রতি কেজি টমেটো ৩০ টাকা, ফুলকপি ২৫ টাকা, শসা ৩০ টাকা, বেগুন ৩৫ টাকা দামে বিক্রি হ”েছ। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর কৃষকরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। খানহাটের খুচরো সবজি বিক্রেতা ফরিদুল ইসলাম জানান, তারা পাইকারি ভাবে সবজি দোহাজারী রেলওয়ে মাঠ থেকে কিনে নিয়ে খানহাটে বিক্রি করেন। কেজিতে ৪ থেকে ৫টাকা বেশি নিয়ে ব্যবসা করে থাকেন তারা। চন্দনাইশ সদরের আজমীর হোটেলের পরিচালক মো. মহি উদ্দিন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ হোটেলে সবজি খেয়ে প্রতিনিয়ত সুনাম করে চলেছেন। কারণ এলাকার সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় খুবই সুস্বাদু।

বৈলতলী ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল হালিম জানান, চলতি মৌসুমে ২ একর কৃষি জমিতে সবজি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। সবজির ফলন ভাল হওয়ায় দামও ভাল পেয়েছেন। আশা করছেন, যা খরচ হয়েছে, তা উঠে এসে লাভের মুখও দেখবেন। বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার মোস্তফা চৌধুরী দুলাল জানান, শঙ্খ তীরবর্তী এলাকায় আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রচুর সবজি চাষ হয়েছে। সবজির দামও রয়েছে একটু বেশি। তাই এলাকার কৃষকেরাও খুশি।

বিভিন্ন জাতের শাকসবজি উৎপন্ন করে বাজারে বিক্রি করছে তারা। প্রতিটি কৃষক পরিবার বার মাস সবজি চাষাবাদ করে সংসারের ভরণ-পোষণ চালায়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, চন্দনাইশে প্রচুর পরিমাণ সবজি চাষাবাদ হয়ে থাকে। কৃষকেরা আগাম চাষ করে ব্যাপক সবজি উৎপাদন করে লাভবান হয়েছে। কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সবজির দামও পায়। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা জানান, এখানকার উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা পূরণে সক্ষম হচ্ছে। ধান চাষাবাদের পাশাপাশি শত শত কৃষক সবজি চাষ করে লাভবান হয়।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.