সীতাকুণ্ডে বন উজাড় করে শিপ ইয়ার্ড নির্মাণের প্রতিবাদ

0

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ সীতাকুণ্ডের সলিমপুরের সাগর উপকুলে সরকারী বন উজান করে শিপ ইয়ার্ড নির্মাণের প্রতিবাদে সলিমপুর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে উক্ত সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামবাসীর পক্ষে সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ আশরাফুদ্দৌলা রহমান। তিনি বলেন, সলিমপুর এলাকাটি একেবারেই সাগর উপকুলে অবস্থিত। তাই উপকুলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাগর, বনভূমি, বেড়িবাঁধ প্রভৃতি আমাদের জীবনযাত্রাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এ পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে আমরাও নিরাপদে থাকি আর উপকুলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে স্থানীয় জনজীবনে এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়।

সেসময় বেড়িবাঁধ ও উপকূলীয় বনায়ন না থাকায় এলাকায় ১০ ফুট উঁচু সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। এতে প্রচুর প্রাণ ও সম্পদহানি হয়। ৯১ সালের ক্ষতি দেখে সরকার এখানে বেড়িবাঁধ স্থাপনের পাশাপাশি সলিমপুর ও তুলাতলী মৌজায় সুবিশাল বনভূমি গড়ে তোলে। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে এ এলাকার পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে।

এসময় সলিমপুর -ভাটিয়ারী তুলাতলী মৌজার সংরক্ষিত বনায়নের মধ্যেই শিপ ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্দ্যেগ নেন শীতলপুর এলাকার আবুল কাসেম প্রকাশ রাজা কাসেম। তিনি বিবিসি ষ্টিল নামক প্রতিষ্ঠানের নামে সেখানে ইতিমধ্যে ইয়ার্ড করার কাজ শুরু করেছে। বনায়নের মধ্যে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড করা আইনত নিষিদ্ধ। এছাড়া বাংলাদেশ গেজেডে তুলাতলী মৌজায় শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নির্মাণ নিষিদ্ধ করা আছে।

রাজা কাসেম কতিপয় কিছু সরকারী কর্মকর্তার সহযোগীতায় তথ্য গোপন করে সলিমপুর মৌজায় বিশালাকার খাস বনভূমি লিজ নিয়ে তিনি সেখানে লাঠিয়াল দিয়ে জোরপূর্বক ইয়ার্ড নির্মিণের চেষ্টা করছেন। রাতের আধাঁরে তিনি বহু বাগানের গাছ কেটে সাবাড় করেছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করাই তিনি এলাকার জনসাধারণের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন। বনভূমি রক্ষা ও মিথ্যা থেকে পেতে আমরা সরকারের প্রতি জোড় দাবী জানাচ্ছি। সংবাদ সন্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রিদোয়ান উদ্দিন সাইমুন, মোঃ কায়ছারুল আলম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মিজানুর রহমান জীবন, ফাহিম মোস্তাফা, আমজাদ হোসেন,মোঃ সাহেদ কাদের প্রমূখ।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.