হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা, বিফলে সাব্বিরের সেঞ্চুরি

0

স্পোর্টস ডেস্কঃ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। সাতে সাব্বিরের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরীও গেল বিফরে। সিরিজের মেষ ম্যাচে কিউইদের দেওয়া ৩৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৪২ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। ফলে ৮৮ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। সেই সাথে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে নিউজিল্যান্ড।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মাশরাফির দল। টিম সাউদির পেস তোপে পড়ে বাংলাদেশ।প্রথমেই তার বলে উইকেটের পেছনে টম লাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এই ডানহাতি পেসারের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার।পরের ওভারে লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ করে তিনি ফিরিয়ে দিলে চাপে পড়ে টাইগাররা।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। ভালোই এগোচ্ছিলেন এই জুটি। কিন্তু থেমে যান মুশফিক। ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হয়ে সাজঘরে চলে আসেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। পরে বেশিদূর টিকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে কলিন মানরোর হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফিরলে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

৩৩১ রানের পাহাড়সম টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ভীষণ চাপের মুখে তাকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাব্বির রহমান। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান সাইফ-সাব্বির। এতে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে টাইগাররা। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে দারুণ জুটি গড়ে ওঠে। ফিফটি তুলে নেন সাব্বির। ফিফটির পথেও এগিয়ে যান সাইফউদ্দিন।

কিন্তু থেমে যান সাইফউদ্দিন। ঠিকমতো ব্যাটে-বলে না হওয়ায় বোল্টের বলে গ্র্যান্ডহোমকে ক্যাচ দেন তিনি। ফেরার আগে ৬৩ বলে ৪ চারে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন সাইফ। এই অলরাউন্ডার ফিরলে ব্যাটিং নামেন মাশরাফি। তবে সাব্বিরকে যোগ্য সমর্থন দিতে পারেননি তিনি। সাউদির চতুর্থ শিকার হয়ে বোল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। এতে জয়ের দিকে চলতে থাকে নিউজিল্যান্ড।

এএকে একে ভেঙে পড়ে টাইগারদের টপঅর্ডার-মিডলঅর্ডার। শুধু থেকে যান সাব্বির রহমান।ব্যাট হাতে লড়ে যান সাব্বির।এগিয়ে যেতে থাকেন সেঞ্চুরির পথে। শেষ পর্যন্ত ১০৫ বল খেলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এটিই তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি। এই হার্ডহিটারের ঝুলিতে রয়েছে ৫টি হাফসেঞ্চুরি। তার তিন অংক ছোঁয়ার পরই ফিরে যান মিরাজ। সাউদির ওপর চড়াও হতে গিয়ে গাপটিলকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৪ বলে ৭ চারে ৩৭ রানের মারকুটে ইনিংস খেলেন মিরাজ।

এর একটু পর রানআউটে কাটা পড়েন রুবেল। অবশেষে সাব্বিরের লড়াইও থেমে যায়। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর আগে ১১০ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। এতে ৪৭.২ ওভারে আটকে যায় লাল-সবুজরা। সাউদি একাই নেন ৬ উইকেট। তার আগুন ঝরানো বোলিংয়ে ধবলধোলাইয়ের আনন্দে মেতে ওঠে কিউইরা।

এরআগে, টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সিদ্ধান্ত কিছুটা কাজেও দিয়েছে, গত দুই ম্যাচে কিউইদের মোট ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছিল টাইগার বোলাররা। সেই তুলনায় আজ ৬টি উইকেট তুলে নেয় সাইফউদ্দিন-রুবেলরা।

প্রথম দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো গাপটিলকে ভয়ঙ্কর হওয়ার আগেই তাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন। তারও আগে মুনরোকে সাজঘরে পাঠিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে টাইগার শিবির। তবে নিকোলস, টেলর, লাথামের ফিফটির পর নিশাম ও গ্র্যান্ডহোমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের সামনে ৩৩১ রানের পাহাড় সমান কঠিন লক্ষ্য।

ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন কঠিন দিন এর আগে আসেনি বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের সামনে। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান দেয়ার রেকর্ড শফিউল ইসলামের। এ ডানহাতি পেসার ২০১০ সালে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ ওভারে দিয়েছিলেন ৯৭।১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিয়েছেন একটি উইকেট। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৯ ওভারে ৪৩, মাশরা্ফি বিন মোর্ত্তজা ১০ ওভারে ৫১, রুবেল হোসেন ৯ ওভারে ৬৪ রান দিয়েছেন। প্রত্যেকেই শিকার করেছেন একটি করে উইকেট। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২ ওভার বোলিং করে দেন ২৮ রান।

এক ম্যাচ সিরিজ জিতে নেওয়া নিউজিল্যান্ড শেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিং করার সুযোগ পায়। শুরুতেই কলিন মুনরোকে (৮) এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন মাশরাফী। দলীয় ফিফটি পেরিয়ে সাইফউদ্দিনের বলে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন মার্টিন গাপটিল। এ ডানহাতি ওপেনার ২৯ রান করেন ৪০ বল খেলে।

হেনরি নিকোলস ও রস টেলরেরর মাঝে গড়ে ওঠে ৯২ রানের দারুণ একটি জুটি। দলীয় দেড়শ পার করে মিরাজের বলে তামিমের ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন নিকোলস। এ বাঁহাতি করেন ৭৪ বলে ৬৪ রান। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চারের মার।দুইশ পার করে রুবেলের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেন টেলর। এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান করেন কিউইদের সর্বোচ্চ ৬৯ রান। ৮২ বলের ইনিংসে চার মারেন ৭টি।

জেমস নিশাম ২৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে কিউইদের রান তোলার গতি বাড়িয়ে মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হন। টিম লাথাম সাজঘরে ফেরেন দলীয় রান তিনশর কাছাকাছি রেখে। ফিজের দ্বিতীয় শিকার হওয়া এ ব্যাটসম্যান ৫১ বলে করেন ৫৯ রান। হাঁকান ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। কলিন গ্র্যান্ডহোমের ১৫ বলে ৩৭ ও মিশেল স্যান্টনারের ৯ বলে ১৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৩৩০ রানের বিশাল পুঁজি পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দুই ব্যাটসম্যানই থাকেন অপরাজিত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৩০/৬ (গাপটিল ২৯, নিকোলস ৬৪, টেলর ৬৯, লাথাম ৫৯, নিশাম ৩৭, ডি গ্র্যান্ডহোম ৩৭*, স্যান্টনার ১৬*; মোস্তাফিজ ২/৯৩, মাশরাফি ১/৫১, রুবেল ১/৬৪, সাইফউদ্দিন ১/৪৮, মিরাজ ১/৪৩)।

বাংলাদেশ: ৪৭.২ ওভারে ২৪২/১০ (সাব্বির রহমান ১০২, সাইফউদ্দিন ৪৪, মিরাজ ৩৭; সাউদি ৬/৬৫, বোল্ট ২/৩৭, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/১৮)

 

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.