‘নবম ওয়েজ বোর্ড’নোয়াব’র বিবৃতি প্রত্যাহারের দাবি- সিইউজে

0

সিটি নিউজ ডেস্ক : সাংবাদিকদের জন্য সরকার ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ড কমিটির সুপারিশ নিয়ে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব’র পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে।

সিইউজের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস এক বিবৃতিতে বলেছেন, গণমাধ্যম কর্মিদের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার যখন নবম সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নে চুড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সেই মহুর্তে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়বের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতি দিয়ে নবম সংবাদপত্র মজুরী বোর্ড বাস্তবায়নে বাধা তৈরীর ষড়যন্ত্র হিসাবে মনে করছে।

নোয়াবের এই বিবৃতি অবাস্তব এবং অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নোয়াব বিবৃতিতে যে পরিসংখ্যান দিয়েছে সে অনুযায়ী দেশের কোন সংবাদপত্রই এখনো পর্যন্ত ৮ম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করেনি। বরং নোয়াবের সদস্যরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভূয়া সার্কূলেশন দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে বিজ্ঞাপনের বাড়তি মূল্যসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আদায় করছে।

শুধু তাই নয়, ৮ম ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী গ্রেড-৩ পর্যায়ে একজন সংবাদিকদের বেতন ৩৮,০৭৩টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোন সংবাদপত্রে তা দেয়া হচ্ছে না। গুটি কয়েকজনকে ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ অনুযায়ী বেতন ভাতা দিয়ে অধিকাংশ সাংবাদিককে থোক বেতন প্রদান করেছে, যা বেআইনি এবং শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। ৮ম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদের সুপারিশ অনুযায়ী সাংবাদিকদের যে সব সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে সংবাদপত্র মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে সেসব সুযোগ সুবিধা না দিয়ে সরকারের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে শুল্কমুক্ত কোটায় নিউজ প্রিন্ট আমদানী সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে আসছে।

শুধু তাই নয়, নোয়াবের সদস্যভুক্ত পত্রিকা মলিকরা সরকারের কাছে পত্রিকায়-ব্যায় সংক্রান্ত যেসব তথ্য আয়কর বিভাগে জমা দিয়ে থাকেন তাতেও জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে বিবৃেিত দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ, নোয়াব মালিকদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য এবং ডিএফপি’র কাছে দেয়া তথ্য মিলেয়ে দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিপূর্বে সরকার সংবাদপত্রকে শিল্প হিসাবে ঘোষনা দেয়ার পর নোয়াবের সদস্যরা শিল্প মালিক হিসাবে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন। নোয়াব তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ৮ম সংবাদপত্র মজুরী বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষনার পর থেকে দেশে মুদ্রাস্ফীত ৩৬.৩৪ শংতাশ ঘটেছে। অথচ সংবাদপত্র মালিকরা সাংবাদিক -কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে তা কোন দিনই অনুধাবন না করে নিজেদের তৈরী বেতন কাঠামো অনুযায়ী অনিয়মিত ভাবে বেতন ভাতা পরিশোধ করে আসছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অবৈধ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদপত্র মালিকরা ভালভাবেই জানেন, গণমাধ্যম কর্মিদের চাকুরী আর সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের চাকুরীর ধরণ এক রকম নয়। অথচ বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে সংবাদপত্র মালিকরা নতুন অজুহাত তুলে ধরেছে। সরকারি-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহে দুই দিন বন্ধ ভোগ করেন কর্মচারীরা। অতিরিক্ত কাজের জন্য শ্রম আইন অনুযায়ী ওভারটাইম দেয়া হয়। সাংবাদিকরা জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু সংবাদপত্রে এর কোনটাই দেয়া হয় না।

অধিকাংশ সংবাদপত্রে পরিচয়পত্র, নিয়োগপত্র, বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট, গ্রুপ ইন্স্যুরেন্সসহ শ্রম আইন অনুযায়ী অনান্য সুযোগ সুবিধা থেকে গণমাধ্যম কর্মিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। নোয়াব তাদের বিবৃতিতে গণমাধ্যম কর্মিদের আয়কর দেয়ার কথা বলেছে। এ প্রসঙ্গে সিইউজে পরিষ্কার করে বলতে চায়, গণমাধ্যম কর্মিরা আয়কর দিবে কিনা এ সম্পর্কে সিইউজের সাবেক সভাপতি বাবু অঞ্জন কুমার সেন বনাম রাষ্ট্র মামলায় এ সম্পর্কে মহামান্য হাইকোর্ট সুনিদিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সুতরাং এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা মানে হচ্ছে আদালত অবমাননার সামিল।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সরকার ৮ম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষনা করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারী করে ওই দিন থেকে কার্যকর করা হয়। অথচ সংবাদপত্র মালিকরা নানা তালবাহানা করে দীর্ঘদিন তা ঝুলিয়ে রাখে। এমনকি তারা গণমাধ্যম কর্মিদের জন্য ঘোষিত মহার্ঘ্য ভাতাও পরিশোধ করেনি।

একই ভাবে ২০১৮ সালে সরকার নবম ওয়েজ বোর্ড কমিটি গঠনের পর প্রথম সভায় ৪৫শতাংশ হারে মহার্ঘ্যভাত প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারী করে। সংবাদপত্র মালিকরা সরকারের এই প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে প্রায় সোয়া একবছর ধরে গণমাধ্যম কর্মিদের মহার্ঘ্যভাতা পরিশোধ না করে বঞ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সাংবাদিক-কর্মচারী সংবাদপত্রের প্রাণ। সাংবাদিক-কর্মচারীদের বাদদিয়ে সংবাদপত্র প্রকাশিত হতে পারে না। পবিত্র ইসলামেও শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে শ্রমের পাওনা পরিশোধের কথা বলা হলেও সংবাদপত্র মালিকরা যুগ যুগ ধরে গণমাধ্যম কর্মিদের যথাযথ বেতন ভাতা পরিশোধ না করে শ্রম শোষন- নির্যাতন, কথায় কথায় চাকুরীচ্যুতি সহ অমানবিক বিভিন্ন নির্যাতন করে আসছে। এমনকি এক্ষেত্রে তারা কোন আইনও মানছে না।

সংবাদপত্র শিল্পে অস্থিরতা তৈরী না করে গণমাধ্যম কর্মিদের জন্য বর্তমান সরকার নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষনার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সংবাদপত্র মালিক তাদের সংগঠন নোয়বকে সহায়তার আহবান জানিয়েছে সিইউজে।

বিবৃতিতে গণমাধ্যম কর্মিদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের পথ রুদ্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র থেকে সংবাদপত্র মালিকদের সরে আসারও আহবান জানানো হয় সিইউজের পক্ষ থেকে। অন্যথায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মিরা দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলেও হুশিয়ার করে দেয়া হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নোয়াব তাদের বিবৃতিতে যে সব তথ্য তুলে ধরেছে, যেসব পরিসংখ্যান দিয়েছে সেসব পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮ম সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিট গঠন করার দাবি জানান।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.