ডিআইজি মিজানের সব সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ- আদালত

0

সিটি নিউজ ডেস্ক :  দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশের ‘বিতর্কিত’ উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের স্থাবর ও অস্থাবরসহ সব সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশিএ আদেশ দেন।

আদালতে দায়েরকৃত দুদকের আবেদনে বলা হয়, পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদের নেতৃত্বে ডিআইজি মিজানের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুদক। তার সম্পদের অনুসন্ধান শুরুর পর থেকেই ডিআইজি মিজান তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি ও স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে অসাধু উপায়ে অর্জিত তার এসব সম্পদ বা সম্পত্তির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে অবস্থায় তার এসব সম্পদ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করাও সম্ভব হবে না। সে কারণে তার সম্পদ ক্রোক করার আবেদন করা হচ্ছে।

দুদকের এই আবেদন আমলে নিয়ে আদালত দুদকের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন এবং সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেন। পরে আদালত আদেশে বলেন, দরখাস্তে উল্লেখ করা ডিআইজি মিজানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এ মুহূর্তে ক্রোক করা না হলে সেগুলো হস্তান্তর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ফলে ডিআইজি মিজানের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হলো।

ডিআইজি মিজানের ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে বেইলি রিটজ ভবনের চতুর্থ তলায় ৫৫ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট, কার পার্কিং স্পেসসহ ৫৫ দশমিক ৫১ অযুতাংশ জমি, কাকরাইলে ২ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট, দোকান ও জমি। এসব সম্পত্তির মূল্য মোট ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬০ টাকা। এছাড়া ধানমন্ডি সিটি ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ১০ লাখ টাকা।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, গতকাল (১৯ জুন) আদালতে এ আবেদনের শুনানি হয়েছে। আমরা আজ এ বিষয়ে আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত ডিআইজি মিজানের সব সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তার ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ক্রোক করা সম্পত্তি যেন হস্তান্তর, বিক্রি বা মালিকানা স্বত্ব বদল করা না যায়, সে জন্য ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শক, তেজগাঁও শিল্প এলাকার ঢাকা রেজিস্টার কমপ্লেক্স, নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার এবং ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, গুলশান, সাভার ও উত্তরার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশে বলা হয়েছে, ডিআইজি মিজানের অবরুদ্ধ করা অ্যাকাউন্টে তার নামে অর্থ জমা করা যাবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই অর্থ তোলা যাবে না। সিটি ব্যাংকের ধানমিন্ড শাখার ম্যানেজার এ আদেশ প্রতিপালন করবেন।

এর আগে গত ১২ জুন পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের সম্পদ অনুসন্ধানে দায়িত্ব দেয়া হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদকে।

ঘুষগ্রহণ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে আগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর এই নিয়োগ দেয়া হয়।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.