ওমানে বড় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ-বিড়ম্বনায় প্রবাসীরাঃ সিরাজুল হক

0

জুবায়ের সিদ্দিকীঃ ওমানে প্রবাসীদের নানবিধ সমস্যা রয়েছে। ৭ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী ওমানে রয়েছে। দেশের মধ্যে যাতায়াতে রয়েছে ৩টি এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট, ইউএস বাংলা ও বাংলাদেশ বিমান। বিমানের যে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে তা হচ্ছে ছোট ফ্লাইট। যাত্রীর সংখ্যা ১৪০ থেকে ১৫০ জন।

আমরা যে কারনে বিমানের টিকেট প্রাপ্তিতে প্রায় এক মাস আগে না গেলে পাওয়া যায় না। এ কথাগুলো বললেন, বাংলাদেশ স্যেসাল ক্লাব সালতানাত অব ওমানের সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী , সমাজ সেবক, দানবীর সিরাজুল হক। গত সপ্তাহে একান্ত সাক্ষাৎকারে সিরাজুল হক বলেন, বড় ফ্লাইট অপারেট না হওয়াতে প্রবাসীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে গত ডিসেম্বর মাস থেকে অনেক লেখালেখির পর এপ্রিলে বড় ফ্লাইট চালু করা হয়েছিল মাস্কাট রুটে। প্রবাসীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চালু হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য প্রবাসীদের, একমাস যেতে না যেতেই বড় ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন আগের মতোই ছোট ফ্লাইট চলাচল করছে। একারনে যাত্রীরা আগের মতোই ঠিক মতো সিট পাচ্ছেনা। প্রবাসীদের যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। যারা দেশে ছুটিতে আসতে চায় তারা টিকেট পাওয়ার আগে দেখা যায় ছুটি শুরু হয়ে গেছে। এই সমস্যা আমরা প্রবাসী মন্ত্রনালয় ও বিমানকে অবহিত করেছি।

এরপর এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে নারী কর্মীদের নিয়ে। এরা নানাভাবে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাসে গেলে আমরা এসব সমস্যাগুলো দেখতে পাচ্ছি। নারী কর্মীদের শারীরিক নির্যাতন ও ডিউটি চুক্তি মোতাবেক না করিয়ে বাড়তি কাজ করানোসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে নারী শ্রমিকদের। বিদেশে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করা উচিৎ।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবা এখন সময়ের দাবি প্রবাসীদের। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের মতো ওমানে কাজের খুব অভাব রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটে অনেক বড় বড় কোম্পানী বন্ধ হয়ে গেছে। বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। কোন কোন কোম্পানীতে ৬/৭শত বাঙালি কাজ করছে। অন্যদিকে বেকারদের আটক করছে আইন শৃংখলাবাহিনী। জেলে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন আটক থাকার পর এরা দেশে ফিরছে।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংগঠক সিরাজুল হক চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা সম্পর্কে বলেন, জলাবদ্ধতা মনুষ্য সৃষ্টিকরা সমস্যা। এটা প্রাকৃতিক কোন সমস্যা নয়। কারণ জলাবদ্ধতা নিরসনে যারা দায়িত্বে আছেন, তারা মূল কর্মকান্ডে চরম অবহেলা করতেছে। যথাযতভাবে তারা নিশ্চয় দায়িত্ব পালন করছেন না। অপরিকল্পিত নগরায়ন মানুষকে ভোগান্তি ও দূর্দশায় ফেলবে নিঃসন্দেহে।

শহরের একটা বড় সমস্যা এতদিনেও সমাধান না হওয়া দুঃখজনক। জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে চট্টগ্রামবাসীকে মুক্ত করতে সরকার অনেক বড় বাজেট দিয়েছেন। এই বাজেট পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মহল কেন তা কাজে লাগাতে পারেনি তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দায়িত্বে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাই দায়ী।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মহলের গাফিলতি এখন নগরবাসীকে খেসারত দিতে হচ্ছে। এমনকি উড়াল সেতুতেও পানি জমছে। পানি নিস্কাষনে উড়াল সেতুতে কোন ব্যবস্থা সঠিকভাবে নেয়া হয়নি। বর্ষা এলেই নগর ডুবে যায়। বিমান বন্দর থেকে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, মোহাম্মদপুর, আগ্রাবাদ, হালিশহর বা নাসিরাবাদ কোথাও জলাবদ্ধতা মুক্ত নয়। এক ঘন্টার বৃষ্টিতে মুরাদপুর, নাসিরাবাদ ও ষোলশহরে কোমর পানিতে বৃষ্টির পানি নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলছে। এটার স্থায়ী সমাধান জরুরী। এভাবে একটি বাণিজ্যিক শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চলতে পারে না।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সম্পর্কে প্রবাসী সংগঠক সিরাজুল হক বলেন, বিমান বন্দরে একসাথে ২/৪টি ফ্লাইট ল্যান্ড করলে যাত্রীদের জটলা বেঁধে যায়। যাত্রীদের লাউঞ্জ ও যাত্রীদের মালামালের বেল্ট আরও একটি বাড়ানো দরকার ও পরিসর আরও বাড়ানো উচিত। একটা ফ্লাইটে যদি ৪শত যাত্রী আসে। তবে ২/৩ ঘন্টায়ও তাদের লাগেজ ক্লিয়ার হয়না। চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা উচিৎ।

ওমানে বাংলাদেশীদের একমাত্র বৈধ সংগঠন ও ওমান সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংগঠন বাংলাদেশ স্যোসাল ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে যাত্রী ও অভ্যর্থনা জানানো স্বজনদের বসার কোন স্থান নেই। সব দেশে ইমিগ্রেশ করার আগে যাত্রী ও অতিথিদের বসার স্থান থাকলেও আমাদের দেশে নেই। বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের জন্য আলাদা কোন সুযোগ সুবিধা চট্টগ্রাম বা ঢাকা বিমানবন্দরে নেই। চট্ট্গ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসী “হেলফ ডেস্ক” আছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত এই ডেস্ক প্রবাসীরা সহযোগীতা যতটুকু পাওয়ার কথা ততটুকু পাচ্ছেনা। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে চলছে। উন্নয়ন হচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতার চেয়ে সফলতা বেশী। সরকার আন্তরিক হলে, প্রবাসীদের সমস্যাগুলো সমাধান হবে। প্রবাসীদের রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখছে।

দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত ও শক্ত রাখতে প্রবাসীদের ভূমিকা অগ্রগন্য। অতএব, বিমানবন্দর সমূহে প্রবাসীদের গমন ও নির্গমন পথ হয়রানীমুক্ত ও ঝামেলামুক্ত হওয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশ, আমাদের অহংকার। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসীরা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। সরকারের অগ্রযাত্রায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।

এ বিভাগের আরও খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.