সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিফলন নাটক ‘জাল’

0

সিটি নিউজ ডেস্ক :  এককথায় বলা যায়, সামাজিক প্রেক্ষাপটের বাস্তব প্রতিফলন নাটক ‘জাল’। সময় যতই এগিয়ে যাক পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় নারী পুরুষের ভেদাভেদ এখনো প্রতীয়মান। তারপরও সেই দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে এসে নিজের অবস্থান তৈরি করে নারীরা। কিন্তু দীর্ঘদিনের সংস্কারগ্রস্থ দেয়াল ভাঙার লড়াইয়ে অনেক সময় মুখতুবড়ে পড়ে নারীর স্বপ্নগুলো। কিংবা অতলেই হারিয়ে যায় নারী। তবুও থেমে থাকে না তাদের এগিয়ে চলার বাসনা। গন্ডি ভেঙে বার বার নিজের অবস্থান তৈরি করে নারীরা।

শিক্ষায় আলোকিত হয়ে কুসংস্কারের জাল ছিন্ন করে তারা। তেমনি নানা ঘটনার প্রতিচ্ছবি তুলে আনা হয়েছে নাটক ‘জাল’এ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৩ অক্টোবর বুধবার দু’দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথমদিনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় বিটার নতুন প্রযোজনা ‘জাল’। বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক জীবন, সাংস্কৃতিক মান উন্নয়ন এবং সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহকে পারফর্মিং আর্টস এর বিভিন্ন প্রায়োগিক মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চার সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য বিটার এই প্রযোজনা। এই নাটকের নির্দেশনা দেন ভারতীয় থিয়েটারের প্রখ্যাত নাট্যকার ও নির্দেশক ঊষা গাঙ্গুলী।

নাটক শুরু হয় দক্ষিণের সুন্দরবনের জেলেদের জীবন নিয়ে। যেখানে তাদের জীবনে এই জাল হয়ে ওঠে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতীক। সুন্দরবনের সামাজিক, প্রাকৃতিক আর অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার সাথে যুক্ত হয়েছে দারিদ্রতা আর অশিক্ষা, গিলে নিচ্ছে তাদের যাপিত জীবনকে। যার প্রতিফলন হিসেবে নারী পাচারের বিষয়টি উঠে এসেছে এ নাটকে ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মানবপাচার বিশেষ করে নারী পাচারের বিষয়টি অনেক বেশি মূর্ত। ‘জাল’ নাটক হলো আমাদের পুরুষশাসিত সামাজিক ব্যবস্থায় নারীদের যুগ যুগ ধরে আটকে রাখার প্রতিচ্ছবি। প্রতিনিয়ত নিপীড়ন নির্যাতন তাদের মুক্তির আকাক্সখাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সময় পাল্টেছে। নারীরা এখন আর জালের মধ্যে অবরুদ্ধ থাকতে চায় না। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে চায়। সেই শিক্ষার জায়গা থেকে জালকে ছিন্ন করার প্রয়াস হিসেবে এ নাটক ‘জাল’। ১৭ জন নাট্যশিল্পীর অভিনয় করেন এই নাটকে । এই নাটকে অভিনয় করে জ্যৈষ্ঠ নাট্যশিল্পী শুভ্রা বিশ্বাস।

এই নাটক নিয়ে নির্দেশক জানান, বহুদিন আগে বিটা’র সাথে ইয়াসমিন নাটকটি করেছিলাম। সে নাটকটি আমাকে বাংলা ভাষায় নাটক লেখার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এবার চট্টগ্রাম এসে মৌলিক লেখনীর মাধ্যমে নাটক রচনা করতে অনেকটা বাধ্য হলাম। ভারত, বাংলাদেশ দু’দেশেই রয়েছে আমাদের সুন্দরবান। একই সামাজিক ব্যবস্থা, একই দারিদ্রতা, একই অশিক্ষা, একই কুসংস্কার, একই জল-হাওয়া, একই জঙ্গল আর বাঘ। এই সমস্ত সীমানা পেরিয়ে নাটক রচিত হলো জাল, যেখানে নারীদের প্রতি প্রতারণা, তাদের আর্তনাদ, তাদের সামাজিক পরিকাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। আর উঠে আসে জেলেদের জীবন, তাদের শৌর্য-বীর্য, দারিদ্রতা, তাদের শক্তি, সাহস আর সব শেষে সুন্দরভাবে জীবনকে উপভোগ করা।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.