খালেদার মুক্তি না হলে ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির’ জন্য সরকার দায়ী থাকবে

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এর জন্য সরকারই দায়ী থাকবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের স্ট্রিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে এমন হুশিয়ারির কথা জানান নাগরিক ঐক্যর আহবায়ক ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে এবার খালেদা জিয়ার প্রতি যদি সুবিচার না করা হয়, অবিচার করা হয়, জামিন দেয়া না হয়, মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে যে উদ্ভূত পরিস্থিতি হতে পারে তাঁর জন্য এই সরকার সর্বতভাবে দায়ী থাকবে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে সতর্ক দিচ্ছি।

মাহমুদুর রহমান মান্না আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ৬৬৪ দিন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যে মামলাত তাঁকে সাজা দেয়া হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে তাঁর শারিরীক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা তাঁর আশু মুক্তি দাবি করছি। আমাদের সভার আজ প্রধান দাবি এটাই। আমরা মনে করি এই দাবি মানবিক। তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দেখা করার কথা ছিলো কিন্তু তা এখনো হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা ২২ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করি, উনি অত্যন্ত সরলমনে আমাদের বললেন, ওনার (খালেদা জিয়ার) আত্মীয় স্বজন পরিবারের সবাই দেখা করছে, আপনারা কয়েন পারবেন না। আপনারা অবশ্যই দেখা করবেন। নীতিগতভাবে উনি আমাদেরকে দেখা করার অনুমতি দিয়েই দিলো।

এখন শুধু আইজি প্রিজনের কাছে দায়িত্বটা দিচ্ছি। যাতে অফিসিয়াল ফরমালিটিটা মেনটেইন করা হয়। এই পর্যন্ত আইজি প্রিজন সাহেব আমাদের কোনো সদোত্তর দিতে পারেন নাই। এ থেকে আমরা বুঝতে পারছি তাঁরা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাদের দেখা করার সুযোগ দিচ্ছে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, কমনসেন্স থেকে একটা কথাই বলতে চাই, আমরা যেটা দেখি এবং আমাদের যে অভিজ্ঞতা এ ধরনের ভুরি ভুরি মামলায় সহস্র সহস্র মামলায় জামিন দেয়া হয় আইনের ইতিহাসে। এ ধরণের মামলায় জামিন পেতে ৫ মিনিটের বেশি লাগে না।

বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান কী থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ৫ তারিখের পরিস্থিতি অবলোকন করবো তারপর আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামিনের ব্যাপারে একটা তথ্য দিতে চাই। খুনের আসামি, যেখানে খুনের অপরাধে তাঁর দন্ড। নিম্ন আদালতে ফাঁসি হয়েছে। হাইকোর্টে ফাঁসি হয়েছে, কনফারমেশন তাতে প্রায় দুই থেকে তিনমাস সময় লাগে। সেই মামলায় ফুলবেঞ্চ আসামিকে জামিন দিয়েছে। যতদিন পর্যন্ত জামিন না হয় ততদিন পর্যন্ত তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন। এ জাতীয় অসংখ্য উদাহরণ আইনে আছে।

সেই তুলনায় খালেদা জিয়ার মামলা এটা রাজনৈতিক। তাঁকে জামিন না দেয়ার কোনো কারণ নেই। এটা আমরা বলেছি, মানবিক কারণে এবং নৈতিক কারণে, সংবিধানগত অধিকারের দিক থেকে তাঁকে জামিন দেয়া উচিৎ।

খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার সুযোগ অবশ্যই আছে। এতোদিনেও কেন তাঁর জামিন হচ্ছে না আমি জানি না।

খালেদা জিয়ার জামিন না হলে বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নের সম্মুখিন হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের আজকে আলোচনার বিষয় ছিলো না।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.