বাঁশখালী থেকে মলেক শাহ দরবারে যাওয়ার সময় পৃথক ২টি নৌকা ডুবিতে নিহত ৪ নিখোঁজ ১

0

বাঁশখালী প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে কুতুবদিয়া দরবারে শরীফের ওরশে যাওয়ার পথে পৃথক ২টি নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে ১ জন।

আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯ টায় কাথরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগমারা চুনতী বাজার ব্রীজ ও দুপুর দেড়টার দিকে খানখানাবাদ এলাকা থেকে দরবার শরীফের উদ্দ্যোশে রওনা হলে ফিশিং বোট ও নৌকা নিয়ে যাওয়ার সময এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে ফিশিং বোটটিতে থাকা কাথরিয়া দক্ষিন বাগমারা এলাকার ছমিয়া বাপের বাড়ী মৃত রৌশনুজ্জানের পুত্র ওমান প্রবাসী মোঃ আক্কাছ (২৮) এর মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত প্রায় ৩০ জন, এতে নিঁখোজ হওয়া কাথরিয়া দক্ষিণ বাগমারা ১ নং ওয়ার্ডের আইদ্দারখীল এলাকার আমান উল্লাহর পুত্র মোঃ মিনহাজ (৯) এর লাশ দুপুর ৩ টায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির একটি টিম। সে কে.বি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র। এদিকে আহতদের স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করে তাদের কে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সে আক্কাছের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

জলকদর খাল থেকে ডুবুরীরা মৃত   একজন শিশুকে উদ্ধার করছেন
জলকদর খাল থেকে ডুবুরীরা মৃত একজন শিশুকে উদ্ধার করছেন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়া দরবার শরীফের ওরশে যাওয়ার জন্য চুনতী বাজার থেকে স্থানীয় মৃত মোঃ ইউসুপ এর পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম নিজের মালিকানাধীন ফিশিং বোটটি নিজে চালিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে রওনা হলে অল্প কিছুদূর যেতেই বোটটি উল্টে যায়।

নিহত আক্কাছের ভাগিনা মোঃ সাগর, চাচাতো ভাই নুর উদ্দীন,মোঃ মাইমুন জানান,নিহত আক্কাছ ওমান প্রবাসী। সে কুতুবদিয়া মালেক শাহ (রাহ:) দরবারে জেয়ারতের উদ্দ্যোশে সকাল সাড়ে ৮ টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কাথরিয়া চুনতী বাজার ব্রীজ এসে ফিশিং বোটে করে রওনা দিলে কিছু দূরে যেতেই বোটটি উল্টে যায়। পরবর্তীতে বাঁশখালী হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। তার এক পুত্র সন্তান রয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী সে আবারো ওমান ফিরে যাওয়ার জন্য কথা রয়েছিল।

নিঁখোজ মিনহাজের বাবা আমান উল্লাহ জানান,আমরা চুনতী বাজার থেকে কুতুবদিয়া দরবারে ওরশে যাওয়ার জন্য চুনতী বাজারের ব্রীজ থেকে ছেলে কে নিয়ে রওনা হই। প্রতি মধ্যে ফিশিং বোটটি ১শ গজ যেতেই বোট টি ডুবে যায়,এতে আমার ছেলে নিঁখোজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিকাল ৩ টার দিকে ডুবুরি ফায়ার সার্ভিসের টিক আমার ছেলে মৃত্যু অবস্থায় উদ্ধার করে। তিনি কান্নাজনীত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে তারা মৃত্যু অবস্থায় ফিরে দেওয়ার জন্য তাদের কে ধন্যবাদ জানাই। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসতায়াক খালেদ জানান, আক্কাছকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিড়ার লিটন বৈষ্ণব জানান, খবর পেয়ে আমিসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা হই। আমরা নিঁখোজ ছেলেটিকে উদ্ধার করার জন্য চট্টগ্রাম শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি একটি টিমকে খবর দিলে তারা এসে নিঁখোজ মিনহাজের লাশটি উদ্ধার করে।

অপরদিকে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রাম থেকে দুপুরে ১৩০ জন যাত্রী নিয়ে কুতুবদিয়া দরবার শরীফে ওরশের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা রওনা হয়। পরে বঙ্গোপসাগর গন্ডামারা অদূরে মোহনায় পৌঁছলে নৌকাটি ডুবে গেলে খানখানাবাদ এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের রায়ছড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিসের পুত্র আব্দুল মালেক (৫২) নিহত হন ও একই ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকার মোঃ জালাল (৩৩) নামের একজন নিঁখোজ রয়েছেন বলে জানা যায়।

খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুদ্দীন চৌধুরী জানান,খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল থেকে একটি ট্রলার কুতুবদিয়া আব্দুল মালেক শাহ (রাহঃ) দরবারে উদ্দ্যোশে রওয়ানা হলে ট্রলার টি বঙ্গোপসাগর গন্ডামারা মোহনায় পৌঁছলে ট্রলারটি উল্টে যায়। এতে আব্দুল মালেক নামে একজনের লাশ পাওয়া যায়। তবে জালাল নামের একজন এখনও নিঁখোজ রয়েছেন।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, বাঁশখালীর কাথারিয়া ও খানখানাবাদ থেকে পৃথক পৃথক দুটি ট্রলারে করে দু’দল লোক কুতুবদিয়ায় আব্দুল মালেক শাহ (রাহঃ) ওরস মাহফিলে যাচ্ছিল। এর মধ্যে একটি গন্ডামারা বঙ্গোপসাগরের অদূরে জলকদর খালে গিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। ওই নৌকায় প্রায় ৭০ জনের মতো ছিল। পরে স্থানীয়রা পৃথক পৃথক ভাবে ৩ জনের লাশ তাদের পরিবারের কাছে নিয়ে আসে। এখন ও একজন নিঁখোজ রয়েছে বলে জানা যায়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন,বাঁশখালী থেকে কুতুবদিয়া আব্দুল মালেক শাহ (রাহ:) বার্ষিকী ওরসে যাওয়ার পথে পৃথক পৃথক ট্রলার ডুবে ৩ জন নিহত, এবং একজন নিঁখোজ রয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.