চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে পরিশ্রমী ও আদর্শিক কর্মীদের মূল্যায়ন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি,সিটি নিউজ : সম্প্রতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছর পর এস এম বোরহান কে সভাপতি ও আবু তাহের কে সাধারণ সম্পাদক করে পরিশ্রমী, ত্যাগী ও আদর্শিক কর্মীদের সমন্বয় করে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালের পর এ জেলায় আর কোন পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কমিটি হয়নি। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক আব্দুল মালেক চৌধুরী জনি হত্যার পর দীর্ঘ সময় কমিটি শুন্য ছিল।

২০১৩ সালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটতে গিয়ে প্রতিপক্ষের আঘাতে হত্যার শিকার হন জনি। জনি হত্যার পর মূলত এস এম বোরহান এবং আবু তাহেরই এই ইউনিটটির হাল ধরেন। তাদের দিয়ে এই ইউনিটের আংশিক কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাত্রলীগের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি -সাধারণ সম্পাদক।

দীর্ঘদিনের জটলার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হওয়ায় পুরো দক্ষিণ চট্টলার ছাত্রলীগের নেতা কর্মিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সাধারণ ছাত্রলীগের কর্মিদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বলেন ‘এই কমিটি সত্যিকার অর্থে ছাত্রলীগের কর্মিদের মাঝে প্রাণ সঞ্চার করেছে। আমাদের অনেক সিনিয়র ভাইরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। তাদের অনেকরই স্বপ্ন ভঙ্গের উপক্রম।একদিকে পরিবারের পরিজনের তাদেরকে নিয়ে স্বপ্ন,অন্যদিকে রাজনীতিতে পরিশ্রমের মূল্যায়নের ব্যাপারে নিজেদের স্বপ্ন।

এই দুইয়ের মাঝে তাদের জীবনটা দূর্বিষহ হয়ে উঠছিল।কমিটিতে আসায় তাদের মাঝে আশার আলোর, প্রদীপ জলে উঠেছে। পদ-পদবীর অসম বণ্টনের ব্যপারে জানতে চাইলে সাধারণ ছাত্রলীগের কর্মিরা বলেন ‘কমিটিতে যারা এসেছে তারা সবাই রাজনীতিতে পরিক্ষিত। সৎ, ত্যাগী ,পরিশ্রমি,কর্মঠ, সংগঠনের জন্য ডেডিকেটেড এবং পরিচ্ছন্ন ছাত্রদের দিয়েই কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এই কমিটি হওয়ায় কর্মিরা রাজনীতির প্রতি উৎসাহিত হবে। সংগঠন মজবুত হবে।

ষড়যন্ত্রের ব্যপারে জানতে চাইলে তারা বলে, দেখুন আপনি যাই করেন না কেন বিরোধীতা থাকবে। কমিটির ক্ষেত্রেও তাই। এস এম বোরহান এবং আবু তাহের দুজনই তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা কর্মি। তারা দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সাথে জেলা কমিটির (আংশিক) দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন দায়িত্ব পালন করবেন। যারা এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিরোধীতা করছে তারা মূলত কর্মিদের জীবন নিয়ে খেলছে। বিরোধীতা করে কমিটি আটকানোর ষড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত হয় তাদের সাধারণ কর্মিরা ঘৃনা করে।

সবার এস এম বোরহান ও আবু তাহেরকে সাধুবাদ জানানো উচিৎ বলে আমরা মনে করি। কারণ তারা দীর্ঘ ২২ বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করাতে পেরেছে। এটাই তাদের সফলতা এটাই তাদের ক্রেডিট। এতে করে বহু সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মির পরিচয় দেওয়ার একটা সুযোগ হয়েছে। সুতরাং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের অগ্রযাত্রা কে রোধ করা যাবে না।

তারা আরো বলেন ‘মূলত যারা সাবেক ছাত্রলীগের আহবায়ক আব্দুল মালেক চৌধুরী জনি হত্যার সাথে জড়িত তারাই বর্তমান দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্র সফল হবেনা কারণ ছাত্রলীগের সর্বস্তরের কর্মিরা এস এম বোরহান ও আবু তাহেরের সাথে আছে।

অপপ্রচারের জবাবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান বলেন, আমরা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছি , আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে ষড়যন্ত্রকারীরা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগে ২২ বছর পর যে আনন্দ সৃষ্টি হয়েছে তা রোধ করতে চাই। কমিটিতে বিতর্কিত কেউ থাকলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.