চন্দনাইশে করোনা সচেতনতায় র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন

0

চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৫’শ ৩৫ জনের মধ্যে ৪৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করেছেন প্রশাসন।

প্রতিরোধ কমিটির সভায় ইউনিয়ন ভিত্তিক র‌্যাপিড রেসপন্স টিম করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা কমেছে। ঔষধ, মুদির দোকান, কাঁচা বাজার, ফলফ্রুটের দোকান ব্যতিত সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলা প্রতিরোধ কমিটি সুত্রে জানা যায়, চন্দনাইশে গত ৫ মার্চ থেকে গতকাল ২৩ মার্চ পর্যন্ত ইমেগ্রেশন রিপোর্ট অনুযায়ী চন্দনাইশে সৌদিয়া, ইতালি, কাতার, ফ্রান্স, দুবাই, নেপাল, ভারত থেকে ৫’শ ৩৫ জন প্রবাসী দেশে প্রবেশ করেছেন। প্রবেশকারীদের মধ্যে ৪৮ জনকে কোভিড-১৯ হোম কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করা হয়েছে।

গতকাল ২৩ মার্চ সকালে উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির এক সভা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেনের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় থানা অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. শাহিন হাসান চৌধুরী, পৌর মেয়র মাহাবুবুল আলম খোকা, চেয়ারম্যান যথাক্রমে হাবিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, আহমদুর রহমান ভেট্টা, আলমগীরুল ইসলাম চৌধুরী, মোরশেদুল আলম উপস্থিত থাকলেও চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, আনোয়ার মোস্তফা চৌধুরী দুলাল, আমিন আহমদ চৌধুরী রোকন উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গত ১০ মার্চ থেকে আজ ২৪ মার্চ পর্যন্ত বিদেশ প্রেরত ২’শ ৮৫ জনকে সনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে সাথে প্রতিটি ইউনিয়নে ২জন পুলিশ সদস্য, ১ ইউপি সদস্য, ১ ইউএনও’র প্রতিনিধি নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখিত র‌্যাপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা তাদের এলাকায় বিদেশ ফেরতদের তালিকা প্রস্তুত করে কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণের ব্যবস্থা নিবেন। কেউ এ আদেশ অমান্য করলে প্রশাসনকে অবহিত করার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনি আইটডোরে ২’শ ৫০ থেকে ৩’শ এবং ইনডোরে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী আসেন। কিন্তু গত ৩দিন ধরে আউটডোরে ৫০ থেকে ৬০ জন ইনডোরে ১৫ থেকে ১৬ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গত কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষ করোনাভাইরাসের আতংকে রয়েছে। যারা আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছেন, ডায়েরিয়াসহ সাধারণ রোগী হাসপাতালে আসছেন। অনেকেই আবার করোনাভাইরাসের ভয়ে হাসপাতালে আসছেন না। এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

গতকাল ২৩ মার্চ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঔষধ, মুদির দোকান, কাঁচা বাজার, ফলফ্রুটের দোকান ব্যতিত সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এতে করে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ জন ব্যক্তি এক জায়গায় একত্রিত হতে পারবেনা। বিশেষ করে টি-স্টলগুলোতে সাধারণ মানুষ বসে বসে বিভিন্ন অপ-প্রচার করতে দেখা যায়। এ ব্যবস্থা নেয়ার অপ-প্রচার রোধ হওয়ার পাশাপাশি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া সম্ভাবনা ও কমবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.