ওমানে মানবেতর জীবন কাটানো প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবী

0

জুবায়ের সিদ্দিকীঃ সালতানাত অব ওমানে করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন ঘরবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে বাংলাদেশী প্রবাসীরা। এক প্রকার বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এসব শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবী বলে জানিয়েছেন ওমানস্থ সোশ্যাল ক্লাব।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনে আয়ের পথহারা, প্রবাসী নিম্ন আয়ের বাংলাদেশিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ওমানে বাংলাদেশী প্রবাসীদের একমাত্র অনুমোদিত সংগঠন সোস্যাল ক্লাব।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে নিয়োজিত ওমান সরকারের অনুমোদিত একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ সোস্যাল ক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল হক জানান, লকডাউন শুরু হওয়ার পরপরই আমাদের তৎপরতা আরম্ভ হয়। সরকারের অনুমতি পাওয়ার সাথে সাথে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে নিম্ন আয়ের প্রবাসীদের মধ্যে। লকডাউনের সাথে সব সরকারি অফিস বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থার মধ্যে অনুমতি নেয়া হয়েছে অনলাইনে। এক্ষেত্রে দূতাবাসও বেশ সহযোগিতা করেছে। মার্চের শেষদিকে সোস্যাল ক্লাব এন-৯৫ মাস্ক এবং হ্যান্ডগ্লাভস বিতরণ করেছে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপারে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

সোশ্যাল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এন আমিন জানান, এখানে করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন ও ঘরবন্দি প্রবাসীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ওমানস্থ বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমার সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রথম পর্যায়ে দেয়া হয়েছে ১০০০ প্রবাসীকে চাল,ডাল এবং তেল। দ্বিতীয় পর্যায়ে দেয়া হয়েছে ১৫০০ জনকে। মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাবস বিতরণ করা হয়েছে।

রাজধানী মাস্কাটের বিভিন্ন এলাকায় বহু বাংলাদেশি লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নিদারুন দুরবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন তারা। লন্ড্রি, সেলুন, টেইলারিং এবং অন্যান্য কাজে নিয়োজিত নিম্ন আয়ের প্রবাসীরা বেশ সংকটে পড়ে গেছেন। সিরাজুল হক জানান, এ সব প্রবাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে সাহায্য সামগ্রী অত্যন্ত সম্মানের সাথে। সোস্যাল ক্লাব এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে প্রায় ৫০০ জনকে দেয়া হয়েছে সবজি।চলতি রমজানে ৫০০ প্রবাসীর মধ্যে বিতরণ করা হযেছে ইফতার সামগ্রী।

সালালায় অবস্থিত সোস্যাল ক্লাবের শাখাও চলমান অবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। সেখানে দু’হাজার প্রবাসীকে দেয়া হয়েছে সাহায্য সামগ্রী।

সিরাজুল হক জানান, মাস্কাট বা সালালা ছাড়াও ওমানের বিভিন্ন স্থানে রয়েছেন নিম্ন আয়ের বাংলাদেশিরা। সেসব এলাকায় অবস্থাসম্পন্ন বাংলাদেশিদের সাথে ক্লাবের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। ক্লাবের অনুরোধে তারাও এগিয়ে গেছেন সাহায্য নিয়ে। সোস্যাল ক্লাবের সাথে দূর-দূরান্ত থেকে প্রবাসীরা যোগাযোগ করছেন ফোনে। সাধ্যমত তাদেরকে সাহায্য করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দূতাবাস, সুলতান কাবুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োজিত বাংলাদেশি শিক্ষকবৃন্দও প্রবাসীদের মধ্যে সাহায্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

সিরাজুল হক জানান, ওমানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিশেষ করে ওমানে অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবী বলে মনে করছেন তিনি।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.