চকরিয়ায় বৃদ্ধ নির‌্যাত, মহিলা মেম্বারসহ ৮জনকে আসামী করে মামলা

0

সিটি নিউজঃ কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাহত্তোরর্ধ এক বৃদ্ধকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হলে সেটি ভাইরাল হয়।

গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৭২ বছরের বৃদ্ধ নুরুল আলমকে কয়েকজন যুবক পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ব্যাপক মারধর করে। আর কয়েকজন যুবক তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। কিন্তু ওই সময় বৃদ্ধকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

এ ঘটনায় গত ৩১ মে রাতে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় এজাহার দায়ের করে। এতে আসামী করা হয়েছে, ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে বদিউল আলম (৫৫), আনছুর আলম (৩৫),শাহ আলম (৫২), শাহ আলমের স্ত্রী মহিলা ইউপি সদস্য আরেজ খাতুন (৪৮), বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), জয়নাল আবেদিন (৩০) এবং মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেলকে (২৮)।

এজাহারে বাদী দাবি করেছে, গত ২৪ মে বৃদ্ধ নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটমযোগে তার নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে স্থানীয় ক্ষমতাধর আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে তাকে নামিয়ে নির্জনস্থানে নিয়ে যায়। পরে পড়নে থাকা লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে ব্যাপক মারধর করে। কয়েকজন যুবক ওই ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এসময় বৃদ্ধ নুরুল আলম বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে ঘটনাটি শোনার পর তার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ নুরুল আলমকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে আসে।
এদিকে এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সবার নজরে আসে।

বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বলেন, ঘটনাটির পুরো নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সন্ত্রাসী আনছুর আলমসহ একদল বখাটে যুবক।

এ বিষয়ে ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে নুরুল আলমের সাথে। তিনি এই এলাকার একজন সমাজপতি। সবাই ওনাকে খুব সম্মান করে। এলাকার কিছু চিহিৃত সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর থানায় এজাহার দেয়ার জন্য আমি পরামর্শ দিয়েছি।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মামলা রেকর্ড হয়েছে। বৃদ্ধকে মারধর ও লাঞ্চিতের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে এসপি মহোদয়ের নজরে আসেন। তিনি বিষয়টি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টা আমি ফেসবুকে দেখেছি। ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.