মাহতাবকে ভারমুক্ত এবং’অনুপ্রবেশকারী’চিহ্নিত করার দাবী

0

জুবায়ের সিদ্দিকী,সিটি নিউজ : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে পদায়নের প্রস্তাব তুলেছেন সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন।

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সভায় কমিটির সদস্যরা এই প্রস্তাবে সম্মতি জানান। প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জাবাবে বলে জানান দায়িত্বশীল নেতারা।

২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগর কমিটির সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা যান। তারপর ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সফরে এসে প্রথম সহ-সভাপতি মাহতাবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। মাহতাব চৌধুরী বঙ্গবন্ধুরর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত জহুর আহমদ চৌধুরীর মেঝ ছেলে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে নগর আওয়ামী লীগের যে কমিটি গঠিত হয় তা ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ন।

বৃহস্পতিবারের সভার প্রস্তাব নিয়ে নগর কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সিটিনিউজকে বলেন ’আমাদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত ভারমুক্ত করতে সভায় প্রস্তাব করেছেন সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। সভায় এ প্রস্তাবে উপস্থিত তরা কেউ দ্বিমত করেননি। সবার সম্মতিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্তের বিষয়টি চিঠি দিয়ে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় সভানেত্রীকে অনুরোধ জানানো হবে।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন সিটিনিউজকে বলেন,’ দল থেকে সুযোগসন্ধানী, হাইব্রীড় ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে আমরা সচেষ্ট আছি। সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুযোগসন্ধানী ও অনুপ্রবেশকারীরা সুদিনে থাকে, দলের দুর্দিনে তাদের পাওয়া যায় না। সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী থাকতেই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, সাধারন সম্পাদক প্রস্তাব করলে অন্যরা সমর্থন করেছেন। সম্মেলন পর্যন্ত উনাকে যেন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কার্যকরী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিট কমিটিগুলোর মৃত, অসু¯’ ও নিস্ক্রিয় সদস্যদের পরিবর্তে কমিটির সক্ষম সদস্যদের দিয়ে শুন্য পদ পুরনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের ৪৩টি ওয়ার্ড, ১৫টি থানা ও ১২৯টি ইউনিট কমিটি আছে। ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলোর মধ্যে কোনো কোনটিতে সভাপতিও সাধারন সম্পাদক মারা গেছেন। সে ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রথম সহ-সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পাবেন। এ রকম ছয়-সাতটি পদ শুন্য আছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,’ আমি নিজেই প্রস্তাব করেছি। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রীড়দের চিহ্নিত করে তাদেরকে বাদ দিতে হবে এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের পদ-পদবীতে এনে মুল্যায়ন করতে হবে। যারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ পদবীতে আছেন, তাদের অনেকেই একটি নির্বাচন এলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করেন এবং দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করেন। দলের কিছু নেতাকর্মী সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অশালিন বক্তব্য রাখেন। যা দৃষ্ঠিকটু এবং দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নের সামিল। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি বলেছি’।

২০১৩ সালের নভেম্বরে ঘোষিত ৭১ সদস্যের নগর কমিটির মেয়াদ দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর। সে হিসেবে বর্তমান কমিটির মেয়াদের পর আরও চার বছর পেরিয়ে গেছে। তবে এখনও সব থানা, ওয়াার্ড ও ইউনিট কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। সত বছর আগে এসব কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলে কয়েকটি ক্ষেত্রে পাল্টা কমিটিও দেখা দেয়। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রয়াত মহিউদ্দিন ও আ.জ.ম নাছিরের বিরোধ ছিল ব্যাপক আলোচিত। ২০১৩ সালে কমিটি গঠনের আগে মহিউদ্দিন বিরোধী শিবিরে ছিলেন বর্তমান সহ-সভাপতি আফসারুল আমীন ও নুরুল ইসলাম বিএসসি, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম সহ কয়েকজন।

তখন সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন আফসারুল আমীন, খোরশেদ আলম সুজন, ই্ব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু । জ্যেষ্ঠ নেতাদের দ্বন্দ্ব আর নানা হিসাব নিকাশে সাধারন সম্পাদকের পদ পান নাছির। এরপর তিনি মেয়র পদেও দলের মনোনয়ন পান। নাছির মেয়র পদে থাকাকালে বিভিন্ন বিষয়ে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছিল।

২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা গেলে সেদিন রাতে তাঁর চশমা হিলের বাসায় অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছিলেন নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। সেই বৈঠকে মাহতাব চৌধুরীকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা নিলেও নাছিরের অনুসারীরা তাতে শুরুতে রাজি ছিলেন না।

করোনা ভাইরাস মহামারীর কারনে এবার পিছিয়ে যাওয়া সিটি কর্পোারেশন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি নাছির। মেয়র পদে দলের মনোনীত নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী এব্ং এখন প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়া সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন দুজনই মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বৃহসস্পতিবার দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মাহতাব চৌধুরী।

সভায় মেয়য়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বদিউল আলম ও এম.এ রশীদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, হাসান মাহমুদ হাসনী, শফিকুল ইসলাম, সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসেন, মানস রক্ষিত, জোবায়ের নার্গিস খান, দেবাশীষ গুহ বুলবুল, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবদুল আহাদ, মোহাম্মদ আবু তাহের, ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, শহীদুল আলম ও জহরলাল হাজারী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.