আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের অভিনব কৌশল

0

জুবায়ের সিদ্দিকী, সিটি নিউজঃ চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বেপরোয়া উদ্ভট ঘটনায় বিরক্ত ও অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এমপি, মন্ত্রি, মেয়রসহ অনেক নেতার ড্রইং রুমে এদের দেখা যায়। এসব অনুপ্রবেশকারীরা প্রথমত বিভিন্ন নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। প্রদান করেন নানা রকম উপঢৌকন বা উপহার সামগ্রী দিয়ে কাছাকাছি যাওয়ার ও ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর তারা নিজেদের ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করে।

এই পরিচয় ব্যবহার করে তারা বড় বড় নেতার বাসভবনে ও অফিসে গিয়ে সখ্যতার সৃষ্টি করেন। এই সখ্যতাকে অবলম্বন করে নেতাদের “কাছের” বা “পছন্দের” হিসেবে পদ-পদবীতে যাওয়াসহ বিভিন্ন মহলে বড় বড় তদ্বির বাণিজ্য ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অনুষন্ধানে দেখা গেছে, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা তাদের অপকর্ম করার সুবিধার্থে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে। মুজিবকোট পরাসহ দলীয় সকল কর্মসূচীতে তাদের ব্যস্ততাই বেশী দেখা যায়। বাজারের বড়মাছ ও খাদ্যসামগ্রী নেতার বাড়ীতে পাঠাতেও ভুল করেন না।

আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন ভূঁইফোড় সংগঠন খুলে দোকানদারী পেশায় প্রতারণায় তারা নেমে পড়েন। এই দুই ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় নেতাদেরকে।

সেলফি ছবি ও এমনি ছবির মাধ্যমে তারা প্রমান করার চেষ্টা করেন যে, নেতাদের সাথে তাদের গভীর সখ্যতা রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের অনেক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, একজন রাজনৈতিক নেতার মূল চালিকা শক্তি বা মূল কাজ হচ্ছে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকা। জনগণকে নিয়ে কাজ করা। কে প্রতারক, কে ভালো মানুষ এটা চেনার কোন সহজ উপায় নেই। কারো গায়ে বা কপালে লেখা থাকেনা তিনি প্রতারক। অথবা তিনি ভালো লোক। সেজন্য একজন কর্মী বা একজন ব্যক্তি যদি এসে ছবি তুলতে চান তাহলে তাকে না বলাটা শিষ্টারচারপন্থী।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীতে দেখা যাচ্ছে, এইসব প্রতারক ও অনুপ্রবেশকারীরা শুধু নেতাদের সাথে ছবি তুলে নানা মাধ্যমে ব্যবহার করে ত্যাগীদের ল্যাং মেরে পদপদবী আঁকড়ে এখন বড় নেতা। এরা দামী গাড়ী নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। নগরীর অভিজাত হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে এরা মেজবানের আয়োজন করে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে এদের দেখা যায় চামচা চাটুকার পরিবেষ্টিত হয়ে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে যাদের টেম্পু ও রিক্সা ভাড়া ছিল না যাদের পকেটে তারা এখন কয়েকটা দামী গাড়ীর মালিক। রয়েছে নগরীতে নামে বেনামে ফ্ল্যাট। রাজপথে ও সমাজে এদের পদচারণা দেখে সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উপর ক্ষোভ ঝাড়ছে। এজন্য দায়ী চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দলের চিহ্নিত কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

আওয়ামী লীগ এবার এব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে যাচ্ছে বলে দলীয় দাীয়ত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। একজন ব্যক্তির পরিচয় সুনিশ্চিত না হয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে যাচ্ছে। শুধু ছবি তোলা নয়, গণভবন ও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যারা আমন্ত্রিত হন তাদের তালিকা পুন বিন্যাশ করা হচ্ছে এবং নিশ্চিত পরিচয় না জেনে কাউকে এই ধরনের রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যাতে ডাকা না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.