কিশোর গ্যাং এর ত্রাসে অস্বস্তিতে জনপ্রতিনিধিরা

0

জুবায়ের সিদ্দিকী/দিলীপ তালুকদারঃ চট্টগ্রাম মহানগরীতে কিশোর গ্যাং এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা যখন তখন যেখানে সেখানে ছিনতাই, রাহাজানিসহ অপরাধ কর্মের সাথে চালাচ্ছে মাদকের ব্যবসা। কিশোর গ্যাং এখন গ্যাং স্টার হয়ে পাড়া মহল্লায় স্বর্গ গড়ে তুললেও দোষ পড়ে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতাদের উপর। কোন অঘটন ঘটলেই “যত দোষ নন্দ ঘোষ” জনপ্রতিনিধিদের ঘাড়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর প্রায় ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাং অপরাধের ঘটনা একের পর এক সংঘটিত করছে অপকর্ম। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মাদক বেচাকেনা, মাদক সেবন, খুনাখুনি, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ দলবল নিয়ে নিজেরাই করে থাকে। অপরাধের নিজস্ব রোডম্যাপ, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন নিজেরাই করে। কোন কোন ওয়ার্ডে তাদের এসব অপকর্মের বদনাম ও দর্নাম বহন করেত হয় জনপ্রতিনিধিদের।

পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমও সরেজমিনে এসে যাচাই বাছাই না করে ছাপিয়ে দেন। কোন কোন ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গণমাধ্যমকেও বিভ্রান্ত করে ফেলে। জনপ্রতিনিধিদের আধিপত্য এখন কোন ওয়ার্ডেই নেই। আধিপত্য এখন কিশোর গ্যাংয়ের হাতে। জিম্মি হচ্ছেন নগরবাসী।

নগরীর পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠা এসব কিশোর গ্যাং এর কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের অনেকের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বখাটে, মাস্তান, মাদকসেবী এসব তরুন কিশোর বস্তি বা ছিন্নমূল পরিবার থেকে উঠে আসা। এদের পারিবারিক কোন ভাল পরিচয় নেই। মাদারবাড়ী ও মোগলটুলিতে স্থানীয় মুরব্বীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এরা এতই পেবরোয়া যে, প্রবীণদের সমীহতো দূরের কথা তাদের উপরও মাঝে মধ্যে আছড়ে পড়ে।

মতিয়ার পুল এলাকার এক ব্যবসায়ী বললেন, “এগুলোর কাজকাম ফইন্নির পোয়া’অলর মতো। আকাম গ’রের তারা, দোষ পড়ের সর্দার-মাতব্বর ও কাউন্সিলরের ‍উপর। পুলিশ তারার লগে হাডুডু খেলে। টহল গাড়ী লই’যায় চাঁদা। ক’ডে যাইবা। কা’রে কইবা। বস্তির টোকাই, ব্রেকছাড়া ফ্যামিলী, ডোন্টমাইন্ড ফ্যামিলীর পোয়াছা এসব আকাম কুকাম গ’রের। ইথারার তুন লীগ বা বিএনপির পরিচয় ন’লাগে”।

চকবাজার, বাকলিয়া, সদরঘাট, ফিরিঙ্গিবাজার, আলকরণ, পতেঙ্গা, বন্দর কলোনী, ইপিজেড, মাঝিরঘাট, মোগলটুলী, সিজিএস কলোনীসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় এসব কিশোর গ্যাংয়ের দাপট এখন চরমে। এরা অপরাধ সৃষ্টি করেই এলাকায় ঘা-ঢাকা দেয়। একটি অঘটন ঘটলেই এরা এলাকা থেকে চম্পট দেয়।

পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গোয়োন্দা সংস্থার সাথে আলাপে জানা যায়, নগরীতে এসব কিশোর গ্যাং এর খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। খুব সহসা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হতে পারে।

গোয়েন্দা সুত্রগুলো জানায়, সমাজে অস্তিরতা ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে এসব গ্যাং স্টার দায়ী। তাদের কারনে জনপ্রতিনিধি ও প্রবীনেরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। নগরীর চিহ্নিত এসব কিশোর গ্যাং এর অত্যাচার, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসার ফিরিস্তি সংগ্রহ ও তাদের পারিবারি তথ্যও সঙগ্রহ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পুলিশ এব্যাপারে সতর্ক ও অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেওয়া হব। এদের ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.