চন্দনাইশের পূর্ব ধোপাছড়ি শঙ্খ নদীর ছড়াই সেতুর দাবী এলাকাবাসীর

0

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ: উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী এলাকা ধোপাছড়ি বাজারের পূর্ব পাশে পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকার মধ্যবর্তী শঙ্খনদীর শাখা নদী।

নদীর দুই পাড়ের মানুষ ব্যবসা বাণিজ্য ও সামাজিক কার্যক্রমে নদী পাড় হতে হয়। কতো কাছের মানুষ কিন্তু নদীর কারণে একে অপরের কাছে যেতে পারছে না। মাঝখানের ছড়াটি যেন তাদের আলাদা করে রেখেছে। এ দুই এলাকার বাসিন্দাদের একমাত্র চাওয়া ছড়ার উপর একটি সেতু।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন শত শত মানুষ পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকা থেকে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাকু দিয়ে পারাপার করে দুইপাড়ের মানুষ।

ধোপাছড়ির একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়টি বাজারের পশ্চিম পাশে হওয়ায় এ ছড়াটি পার হয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা থেকে পড়ে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা সামগ্রী ভিজে যায় নদীর পানিতে। তাছাড়া প্রতিবার প্রতিজনকে নদী পার হতে দিতে হচ্ছে ৫ টাকা।

মালামাল নিয়ে পার হতে হলে দুভোর্গের যেন শেষ নেই। স্থানীয়দের মতে স্বাধীনতার পর থেকে এ ঘাটটি লোকজনকে পার করিয়ে দেয়ার জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর থেকে বিপুল পরিমান অর্থ এ ঘাটে আদায় হলেও যাতায়াতকারী মানুষের সুবিধার্থে এখনো সেতু নিমার্ণের কোন পরিকল্পনা গ্রহন করা হয় নাই। অথচ শঙ্খনদীর উত্তর পাড়ে ধোপাছড়িতে রয়েছে পূনাঙ্গ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সাঙ্গু ও ধোপাছড়ি বনবিট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদসহ অসংখ্যা স্থাপনা।

চন্দনাইশের পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকায় একটি শঙ্খ নদীর ছড়াই সেতু এলাকাবাসীর দাবীস্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবী শঙ্খনদীর ছড়ার উপর এ এলাকায় একটি সেতু। সেতুটি হলে বিদ্যালয়ের ২ শতাধিক শিক্ষার্থী, ৫/৬ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ, সে সাথে এসব গ্রামে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন কৃষকেরা। তাদের মতে এখানে সেতু নিমার্ণ করা হলে ধোপাছড়ির অবকাঠামো উন্নয়নের পাশা-পাশি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবৃষ্টিত ইউনিয়নটি পর্যটন এলাকায় রূপান্তরিত হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, স্বাধীনতার পর অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছেন। ধোপাছড়ির উন্নয়ন হয়নি।

বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ধোপাছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়েছে। সে সাথে এ সেতুটি নিমার্ণ হলে পূর্ব ধোপাছড়ি বাসীর সাথে ধোপাছড়ির সেতুবন্ধন রচিত হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন পাহাড়ি ঢল নামে তখন তীব্র স্রোতের মুখে এ এলাকার মানুষের চরম বিপদ সংকুল পরিবেশে নদী পাড়ি দিতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্টানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়ে দুভোর্গে। অনেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বর্ষা মৌসুমে।

সিটি নিউজ/এসআরএস

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.