বান্দরবানে ফের সড়ক-নৌপথ অবরোধ

বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানে আওয়ামী লীগ নেতা মংপু মারমা ৬ দিনেও উদ্ধার না হওয়ায় ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক-নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি পালন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। আজ (১৯ জুন) রোববার সকাল থেকে চলছে এ অবরোধ। তবে বান্দরবান সদর উপজেলায় পৌর এলাকা এ অবরোধের আওতার বাইরে রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালায়ে শনিবার সকাল ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সিনিয়র সহসভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর আলম জেলার ৪টি উপজেলায় অবরোধের ঘোষণা দেন।

রোববার সকাল থেকে জেলা শহরের পৌর এলাকার বাইরে চারটি উপজেলায় এ অবরোধ কর্মসূচি চলে। কোথাও যান চলাচল করেনি সকাল থেকে। সড়ক ও নৌপথসমূহ রয়েছে বন্ধ। সকালে অবরোধের সমর্থনে শহরের প্রধান সড়কগুলেতে বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা-কর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়। থানছি, রোয়াংছড়ি, রুমা উপজেলার সঙ্গে সড়ক ও নৌপথ রয়েছে সম্পূর্ণ বন্ধ।

এর আগে গত ১৪ জুন জেলা আওয়ামী লীগ অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক-নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিলে ১৫ এবং ১৬ জুন অবরোধ চলার পর অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বিকেলে এক পথসভায় শুক্রবার ও শনিবার দু’দিন অবরোধ শিথিল করার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, গেল ১৩ জুন সোমবার রাত ১১টার দিকে রাজবিলা ইউনিয়নের জামছড়ি মুখ পাড়ার ইউপির নারী সদস্য ক্রানুপ্রু মারমার বাড়ি থেকে মংপু মারমা নামে এই নেতাকে ১০/১৫ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল অপহরণ করে গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় অপহৃত মংপু মারমার জামাতা হ্লামংসিং মারমা বাদী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শীর্ষনেতাসহ ৩৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বান্দরবান থানায়। ঘটনার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন।

অপহরণ ঘটনার মামলায় পুলিশ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান সদর উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উচসিং মারমা, মেহ্লাচিং মরাম,সাদোচিং মারমা,শৈখ্যাইচিং মারমা ও বাচিংমং মারমা নামে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বান্দরবান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিক উল্লাহ জানান, মংপু মারমাকে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অভিযানে সেনা সদস্য ও পুলিশকে সহায়তা করেছেন সাধারণ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.