ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ঈদ-উল-আযহা

0

আবছার উদ্দিন অলি : ঈদ মানে খুশী। এক অনাবিল আনন্দ বছরে অনন্ত: এই একটা দিন সবাই মিলে উপভোগ করে খাওয়া-দাওয়া এবং বেড়ানোর নির্মল আনন্দ। এবারের ঈদ-উল-আযহাও চিরায়ত আনন্দ উৎসবের আমেজে থাকবে পরিপূর্ণ। বছরের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহার দিনে সবচেয়ে বড় আনন্দ পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনের সাথে মিলিত হওয়া। আর ঈদ মওসুমের বড় বিড়ম্বনা দূর-দূরান্ত থেকে বাড়ী ফেরা। শিক্ষা কর্মসূত্র বা বিভিন্ন উপলক্ষে যারা চট্টগ্রামে অবস্থান করেন তারা সবাই ফিরবেন বাড়ীতে পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য। কিন্তু যাত্রাপথে হয়রানীর কি শেষ আছে? নানা ঝামেলা হয়রানিতেও আনন্দ প্রায় ম্লান হয়ে যায়। রেলে, বাসে হয়রানী, দূর্ঘটনা আরো কত কি?

ঈদ-উল-আযহা মূলত: ধর্মীয় উৎসব হলেও বাহ্যিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের দিক থেকে এটি প্রায় ঈদুল ফিতরের অনুরূপ। ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এই দিনেও থাকে আনন্দ উৎসব। বছর ঘুরে আবার এল পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। সুখ, সৌহার্দ্য আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে এ উৎসব। ঈদ-উল-আযহা সব ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার দিন। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনন্দ অমলিন হোক। ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সব মুসলমান মিলেমিশে ঈদের আনন্দ সমভাগ করে নেন, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার ভুলে খুশিমনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধ সুদৃঢ় করেন। ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ১০ জিলহজ্ব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। ঈদ-উল-আযহা মানে শুধুমাত্র গরু-ছাগলের মাংস ভক্ষন নয়, ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ারও সময়। তাই কোরবানীর মূল দর্শন থেকে সরে গিয়ে ঈদ-উল আযহাকে অর্থ ব্যয়ের প্রতিযোগিতায় না নেয়াই ভাল।

ঈদ-উল-আযহার শিক্ষা হলো কোরবানীর মাধ্যমে নিজের পশুত্বকে জবাই করা। আল্লাহ রাসুলের নামে প্রিয় জিনিসকে কোরবানী দেওয়া, মনের সমস্ত কালিমা দূর করা। মাংস খাওয়া আর লোক দেখানোর জন্য বড় গরু কেন নয়। ছোট বেলা বাব-মা’র কাছে লাল গরু কেনার বায়না এবং সেই সাথে হাটে গিয়ে গরু কেনা, পায়ে হেঁটে বাড়ীতে আনা। পরদিন থেকে গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গরুকে মালা পরিয়ে ঘুরে বেড়ানো, খাবার খাওয়ানো, রাত জেগে পাহারা দেওয়া, গরুকে লড়াই লাগানো ইত্যাদি ঘটনা গুলো এখনও ফেলে আসার কিছু স্মৃতিতে ভেসে উঠে। মনে পড়ে সেইতো দিন কতনা আনন্দের ছিল। এখন ইন্টারন্টে, মেইল, ফেইসবুক আর সেলপির যোগে এই আনন্দ যেন হারাতে বসেছে।

চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি গরু বাজার এখন ক্রেতা সাধারণের পদভারে কম্পিত। ঈদ তাই যানজটে গাড়ীর ধোঁয়ায় ভারী চট্টগ্রামের হাওয়া। গরু ছাগলের দখলে রাস্তাঘাট। নগরীর প্রতিটি রাস্তা দিয়ে আনা হচ্ছে গরু। গরু আসছে হেঁটে, ট্রাকে। ক্রেতা গরুর দাম বলতে বলতে বিরক্ত বোধ করছে। দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার উৎসব পালিত হয় একটু ভিন্নভাবে। বিশেষ করে নগরীতে এবং বর্তমানে গ্রামেও কোরবানীর পশু কেনা নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা পড়ে যায়। পশুর সাইজ (আকার) নিয়েই মূলত: এই প্রতিযোগিতা অর্থাৎ বিত্তবানরা কে কত বড় পশু ক্রয় করলো, কে কত বেশী দাম দিয়ে ক্রয় করলো এসব নিয়ে নগরীর বিভিন্ন পাড়ায়-পাড়ায়ও চলে আলাপ। এ ধরনের প্রতিযোগিতা অনাকাঙ্খিত এবং বাড়াবাড়ি। এতে হয় কি কোরবানীর বড় বাজেটের জন্য অনেক বড় রকম দুর্নীতিও করেন। দুর্নীতি করে কোরবানীর পশুর সাইজ বড় করার কি দরকার? বেশী করে মাংস খাওয়ার জন্য? যারা সারা জীবনই মাংস খাওয়া থেকে বঞ্চিত তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

গরু, ছাগল বেচা-কিনার পালা শুরু হয়েছে। এবার এগুলো জবাই করে কোরবানী দেওয়া আর সেই কোরবানীর পশু অধিকাংশ জবাই করা হয়ে থাকে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে। গরু-ছাগলের মলমূত্র নানা রকম ময়লা আবর্জনায় নগরীতে এক বিশ্রি দুর্গন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশটা নষ্ট করা হয়। এ ব্যাপারে সবাই একটু সচেতন ও বাড়তি কিছু পরিশ্রম করলে সমস্যাটা হয় না। জবাই করার পর ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ব্লিসিং পাউডার ছিটিয়ে দিলে অনেকটা ভালো থাকে পরিবেশ।

আপনার আশে-পাশের পরিবেশ আপনারই। সিটি কর্পোরেশনের পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন বিভাগ কে ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত লোকবল এবং গাড়ী ভ্যানসহ ময়লা আবর্জনাবাহী গাড়ীগুলোকে খুব দ্রুত কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নগরীকে পরিস্কার রাখতে সিটি কর্পোরেশন যাবতীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। যেখানে সেখানে গরু জবাই এবং চামড়া বিক্রি রোধ করার জন্য একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিম ঈদের দিন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়োজিত থাকবে। পরিবেশটা সুন্দর রাখতে আমরা একটু সিরিয়াস হলে হয়। নগরীর সৌন্দর্য আপনার সৌন্দর্য আমার সৌন্দর্য। আপনি আপনার আশে-পাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সহায়তা করুন। মুসলিম সম্প্রদায় তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উদযাপন করবে। ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হবে মন। মুসলমানদের মহা উৎসবের এ দিন পালনের প্রস্তুতি চলছে বার আউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রামেও। ঘরে ঘরে এখন ঈদের আমেজ। সাজ সাজ রব সর্বত্রই। ঈদে নানা রকম খাওয়া-দাওয়া, বেড়ানোর আনন্দ অফুরান। এ আনন্দের অংশীদার সকলেই। আনন্দময় হোক আমাদের ঈদ উৎসব। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি বিভেদ ভুলে আমরা সুন্দর মনে এক হয়ে মিলিত হই ঐক্যের বন্ধনে। ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ঈদ-উল-আযহা উপভোগ্য হয়ে উঠুক। সবাইকে ঈদ মোবারক।

লেখকঃ সাংবাদিক ও গীতিকার
০১৭১১-১৬৯১৪৯

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.