প্রচলিত আইনের পরিপন্থি বক্তব্য না দিতে ইমামদের প্রতি আহ্বান

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি কোনো বক্তব্য বা বয়ান না দিতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে উচ্চ আদালত। ব্লগার রাজীব হত্যার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে দুই বিচারক বলেছেন, ‘ইমামদের কাজ হচ্ছে মুসল্লিদের নামাজ পড়ানো। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া। তিনি এমন কোনো বয়ান দিবেন না যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি হয়।

রবিবার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়। দুই জনকে ফাঁসি এবং পাঁচ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে বিচারিক আদালতে রায় বহাল রাখে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রাজীব হত্যা মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাতে বলা হয়, জঙ্গি সংগঠন আনসারুউল্লাহ বাংলা টিমের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুটি মসজিদে জুমার খুতবায় ধর্মের বিরুদ্ধে লেখে এমন ব্লগারদের হত্যার ফতোয়া দিতেন। রাজীব হত্যায় জড়িত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তারা ওই খুতবা শুনতেন। এভাবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। জসীমউদ্দিনের লেখা বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে বাকি আসামিরা ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন।

হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘শরিয়াহ আইন আমাদের দেশে প্রচলিত কিনা সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে।’

বিচারকরা বলেন, ‘‘যদি কেউ ইসলাম এবং মুহাম্মদ (সা.) অথবা যে কোনো ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।’

আসামিদের বিষয়ে বলা হয়, ‘এই মামলার আসামি মুফতি জসিমউদ্দিন ছাড়া বাকি সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা কেন এই পথে এসেছে এই মামলায় তা বোধগম্য নয়। এই ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়ার জন্য অভিবাভকরাই দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। আমিও তাই মনে করি। এই মামলার আসামিদের সকলের পিতা-মাতা উচ্চশিক্ষিত। আমরা নিজেদের লাইফস্টাইল কীভাবে উন্নত করা যায় সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের বাচ্চাদের মানসিক অবস্থার কথা, তারা কি করতে চাই, কোন বিষয়ে পড়তে চাই, তার না জেনে তার মনের বিরুদ্ধে অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়। এই কাজের জন্য প্রাইমারি শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পলন করতে হবে। পরিবেশ, রাজনীতি, ধর্মীয় আচার ব্যবহার, স্বাধীনতার ইতিহাস যথাযথভাবে শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে। এ নিয়ে সবার এবং সরকারেরও ভাবতে হবে।’

মামলা তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ বিষয়ে পর্যাবেক্ষণে বলা হয়, ‘মুফতি যেখানে খুৎবা দিতেন সেখানকর মুসল্লিদের প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হয়নি।’

যারা শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য কাজ করবে-এমন কর্মকর্তাদেরকে মামলার তদন্তে নিয়োজিত করতে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেয়া হয় পর্যবেক্ষণে।

মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজীর হত্যা পরিকল্পিত, একদল হত্যায় সরসারি অংশ নিয়েছে। অন্যরা তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিচারিক আদালতের রায় পরিবর্তনের কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি জানিয়ে সে জন্যেই এই রায় বহাল রাখার কথা জানান দুই বিচারক।

এই মামলার বাদী রাজীব হায়দারের বাবার এক রিভিশন আবেদন করার বিষয়ে রায়ে বলা হয়, ‘এই মামলায় আসামিদের সাজা বৃদ্ধির জন্য বাদীর পক্ষ থেকে একটি রিভিশন আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আবেদনের শুনানির জন্য কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।’

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.