বিকৃতি, উম্মাদনা ও উলঙ্গপনায় যুব সমাজ শিকড়চ্যুত হচ্ছেঃ মেয়র

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, পৃথিবীতে সব ধর্মেরই আবির্ভাব ঘটেছে শান্তির মর্মবানীকে ধারন করে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মদীনা শরীফে প্রিয় নবী রাসুল (স.) বিদায় হজ্বের ভাষনে স্রষ্টার সৃষ্টি সব মানুষের জন্য শান্তি ও কল্যানময় পৃথিবী গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন এবং প্রত্যেকের ধর্মীয় ও সামাজিক স্বাধীনতার উপর গুরত্বারোপ করেছেন।

আজ শুক্রবার ( ২২ জুন ) বিকেলে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ নগরভবন চত্বরে ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ঈদ আনন্দ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষনে সিটি মেয়র এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গীয় জনপদসহ উপ মহাদেশে ইসলামের প্রসার ঘটেছে সুফিবাদের দর্শন ও মরমী চেতনায়। তাই পীর আওলীয়ার পয়ঙ্গম্বরদের মাজার প্রত্যেক ধর্মালম্বীদের জন্য পবিত্র পূণ্যভূমি। তাই এ মাটিতে ধর্মে ধর্মে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি ও মহামিলনের সেতুবন্ধন রচিত হয়েছে এবং এটাই আমাদের অসাম্প্রদায়িক ধর্মীয় লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্য।

তিনি আরো বলেন বাঙালির চিরন্তন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারার সাথে ঈদ উৎসবের যোগসূত্রতায় নতুন প্রজন্ম পরিশুদ্ধ হতে পারে। আজকাল আমাদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন চলছে। বিকৃতি, উম্মাদনা ও উলঙ্গপনায় যুব সমাজ শিকড়চ্যুত হচ্ছে এবং একটি ভোগবাদী সমাজের নষ্ট কীটে পরিণত হচ্ছে।

এই অবক্ষয় রোধ করা না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারনের মধ্য দিয়ে আমাদের পবিত্র হতে হবে। উদ্বোধকের ভাষনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মন থেকে চিন্তা-চেতনা থেকে সংকীর্ণতা ধুয়ে মুছে না গেলে কখনো আত্মশুদ্ধি হয় না।

আত্মশুদ্ধি না হলে আনন্দও বিশাদময় হয়ে উঠে। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রত্যেককে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ প্রগতির পথের কাটা অপসারন করতে হবে। সমাজ যতই এগুবে ততই আমরা পরিপূর্ণ মনুষ্যত্য অর্জনে সক্ষম হবো। তাই অর্থনৈতিক মুক্তিই হবে আনন্দ উদযাপনের সবচেয়ে বড় উপলক্ষ।

ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক নিয়াজ মোরশেদ এলিট এর সভাপতিত্বে আয়োজক পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব আশফাক আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী,

জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোরশেদুল আলম, উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব আলী আকবর, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, সাংস্কৃতিক সংগঠক শিল্পী কামরুল আজম চৌধুরী টিপু, শওকত আলী সেলিম, নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজ,

মাস্টার আবদুর রহিম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত, ফয়সাল বাপ্পী সহ প্রমূখ। এতে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মী দীলিপ সেনগুপ্ত, রুপম মুৎসুদ্দী টিটু, আবু সুফিয়ান, আসিফ ইকবাল সহ অন্যরা। ঈদ আনন্দ উৎসবের আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা চসিক নগরভবন চত্বর থেকে আন্দরকিল্লা হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পুনরায় নগরভবন চত্বরে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন চারুতা নৃত্যকলা একাডেমী ও ঘুঙুর নৃত্যকলা একাডেমী,দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন নিবেদন শিল্পীগোষ্টি। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন বেতার টেলিভিশন শিল্পী কামরুল আজম চৌধুরী টিপু, নিশা চক্রবর্তী, প্রিয়াংকা দাশ অর্কি, রিমি সিনহা, পুজা বড়ুয়া, শুকলা পাল কনিকা।

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.