জনসংখ্যাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ: প্রধানমন্ত্রী

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::অনেকে আমাদের জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি কোনো একটা উদ্বেগজনক ব্যাপার না’। তিনি বলেন, ‘যদি তাদেরকে শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে তৈরি করতে পারি। তারাই হচ্ছে আমাদের মূল সম্পদ। জনসংখ্যাই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক তিন দিনের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। স্থানীয় ও বৈশ্বিক শ্রমশক্তির চাহিদা অনুযায়ী পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দেন তিনি। বলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনশক্তি আমাদের জনসম্পদ। এই সম্পদকে আমাদের আরও ভালভাবে শিক্ষায় দীক্ষায় উন্নত করে গড়ে তুলতে হবে। সে দিকে লক্ষ্য রেখে আর জনশক্তি সেটা শুধু ছেলেরা নয়, ছেলে মেয়ে উভয়ই যেন সমানভাবে শিক্ষিত হতে পারে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে আমরা দৃষ্টি দিয়েছি।’

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে মাত্র কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার মাত্র ১.৮ ভাগ ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনা করায় এবং আমরা যেসব উদ্যোগ নিয়েছি তার ফলে এটা শতকরা ১৪ ভাগে উন্নীত হয়েছে।’

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ২০২০ সালের মধ্যে আমরা শতকরা ২০ ভাগ, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ লাভ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ ভাগে উন্নীত করব-এটাই আমাদের লক্ষ্য।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা জানান, এখন দেশে নারীদের জন্য চারটিসহ মোট ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বেসরকারি পর্যায়ে সরকার অনুমোদিত ৪৬৭টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করে যাচ্ছে। সরকারি প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় শিফট চালু হয়েছে। আর যে জেলাগুলোতে এখন পযন্ত এই ইনস্টিটিউট নেই, সেখানে বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় চারটি শহরে নারীদের জন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে প্রত্যেক বিভাগে একটা করে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থাকবে। প্রত্যেকটি বিভাগে একটি করে মহিলা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে।’

দেশে বর্তমানে ৬৪টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ও কলেজ চালু আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারি করার পাশাপাশি একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজও করা হবে। এরই মধ্যে ১০০টি উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে।

‘দক্ষ জনশক্তি একটি দেশ ও জাতির সমষ্টিক উন্নয়নকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম’-এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা ও প্রায়োগিক দক্ষতার সমন্বয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। টেকনিক্যাল শিক্ষা এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। কারিগরি শিক্ষাকে এ জন্য পর্যায়ক্রমে মূল ধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে হবে।’

এ বিভাগের আরও খবর

আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.